বৈশ্বিক মহামারি করোনা থামিয়ে দিয়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। সবাইকে করে দিয়েছে একেবারে ঘরবন্দি। দীর্ঘদিন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় অনলাইন ক্লাস চললেও আশানুরূপ ফলাফল নেই। ক্যাম্পাসে ফেরার প্রহর গুনছে প্রতিটি শিক্ষার্থী। আশায় বুক বেঁধে আছে কবে ফিরবে প্রিয় ক্যাম্পাসে। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন কিছু শিক্ষার্থীর ভাবনা তুলে ধরেছেন— মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ
দীর্ঘ প্রায় সাত মাস যাবত গ্রামের বাড়িতে আছি। নির্দিষ্ট করে বললে, ঘরের মধ্যেই আছি। একঘেয়েমি চলে আসাটা অতি স্বাভাবিক। ক্রমেই দৈনন্দিন গতিময়তা হারিয়ে জীবনে অনুপ্রবেশ করছে মন্থরতা। একঘেয়েমির ফলস্বরূপ কোনো কাজেই মন বসছে না ইদানীং। দিনগুলো অনেকটা নিষ্ফলভাবেই কেটে যাচ্ছে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও পরিস্থিতির শিকার হয়ে ফেরা হচ্ছে না প্রিয় ক্যাম্পাসে। ক্যাম্পাসের রুটিনমাফিক নাশতা, ক্লাস, আড্ডা, গ্রুপ ওয়ার্ক সবই যেন স্মৃতির পাতায় ধুলা মলিন কিছু খণ্ডচিত্রে পরিণত হয়েছে। খণ্ডচিত্রগুলো পুনরায় চিত্রিত হোক প্রিয় ক্যাম্পাসের প্রিয় জায়গাগুলোতে, কায়মনোবাক্যে সেটাই চাই। অভিশপ্ত সেশন জটের কবলে হয়তো এরই মধ্যে বন্দি হয়েছি। আরো বেশি করে এই বন্ধনে আবদ্ধ হতে চাই না। প্রত্যাশা একটাই, দ্রুত সময়ে উত্তরণ ঘটুক এই পরিস্থিতির। অবসান হোক ক্যাম্পাসে ফেরার অধীর অপেক্ষার।
—রোকনুজ্জামান, শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
করোনা নামক এক অদৃশ্য ভাইরাস স্বাভাবিক, মুক্ত, স্বাধীন জীবনযাপনকে ঘরবন্দি করল। মনের ভেতর ভয়ের বাসা বাঁধল ভাইরাসটি। প্রথমের দিনগুলো পরিবারের সবার সঙ্গে ভালো কাটছিল। মাঝেমধ্যে কাটানো দিনগুলোর কথা মনে করে ও কিছু ছবি দেখে সময় কাটছিল। দিন যত বাড়তে লাগল একটু করে একঘেয়েমি ও বিরক্ত আসল বন্দি জীবনে। বেশির ভাগ সময় মনে পড়ে বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো সময়গুলো। ক্যাম্পাসে চায়ের কাপে আড্ডা, তর্ক-বিতর্ক, উচ্চস্বরে গান গাওয়ার কথা। ক্লাস টেস্ট ও পরীক্ষার আগে একটু পড়াশুনা করা। যাদের সঙ্গে সারা দিন কাটত তাদের কারো সঙ্গে দেখা পর্যন্ত হচ্ছে না। প্রতিদিনই মনে হয় কবে প্রিয় ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সঙ্গে মিলিত হব। আবার আগের মতো স্বাভাবিক, মুক্ত, স্বাধীনভাবে জীবনযাপন শুরু হবে। এই ভেবেই অনেকটা সময় কাটে। পরিস্থিতি সবার স্বাস্থ্যের অনুকূলে আসলেই যেন দ্রুত ক্যাম্পাস খোলা হয় এই আশায় আছি।
—আব্দুস সবুর লোটাস, শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
ছুটি মানেই সীমাহীন আনন্দ, আমরা খুঁজে পাই যন্ত্রণাময় পড়াশোনার চাপ থেকে মুক্তি। কিন্তু এ ছুটি অনিশ্চিত, অদ্ভুত রকম অনির্দেশ্য। দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থাকার ফলে ক্যাম্পাসের প্রতি মায়াটা যেন আরো গভীরভাবে অনুভব করছি। টং দোকানগুলোতে চায়ের কাপে ধোঁয়া ওঠে না আজ অনেকদিন, তপনদার মুখের সেই চিরচেনা হাসি নেই, ক্লাসের ফাঁকে সদলবলে ক্যাফেটেরিয়ায় আড্ডা, সব যেন আজ কল্পনা। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা করার সুবাদে শ্রদ্ধেয় ভিসি স্যারসহ অনেক উচ্চপদস্থ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কাছে যখন মতামত জানতে যেতাম, প্রায়শই শুনতে পেতাম ওনাদের জীবনঘনিষ্ঠ অভিজ্ঞতার গল্প। এখন সারাক্ষণই পরম করুণাময়ের কাছে প্রার্থনা আবার ঝলমলে সুন্দর সকাল হোক, প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠুক প্রিয় ক্যাম্পাস, আবারও নৃত্য-ছন্দে মেতে উঠুক মুক্তমঞ্চ, খুব দ্রুতই যেন ফিরতে পারি প্যারা দেওয়া সেই ক্লাসরুমগুলোতে প্রিয় মুখগুলোর সঙ্গে।
—রেজওয়ান আহম্মেদ, শিক্ষার্থী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।
করোনায় জীবনকে সংকীর্ণতা করেছে। তবে এর মধ্য দিয়েও ফিরে যেতে চাই আমার প্রিয় ক্যাম্পাসটিতে। আগের মতো গাইতে চাই গান, হাসতে চাই প্রাণ খুলে। চায়ের আড্ডায় কীর্তনখোলার নদীর তীরে মুক্ত বাতাসে বন্ধুদের সঙ্গে খোশগল্পে মেতে উঠতে চাই। বন্ধু, অনুজ ও অগ্রজদের সঙ্গে মিলনমেলায় আড্ডা দিতে চাই শেখ হাসিনা হলের পাশে তালতলা নামক স্থানে। যেটি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের একটি অন্যরকম স্মরণীয় স্থান। কবে খুলবে ক্যাম্পাস শুধু সেই অপেক্ষায়। মনটা আজ বিচলিত। আগের মতো পরিবেশ ফিরে আসুক এই কামনা করি। শিক্ষার্থীদের আনাগোনায় মুখরিত হোক ক্যাম্পাস। প্রাণ ফিরে পাক প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যদিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া সবকিছু আগের মতো চলছে। তাই আশাবাদী স্বাস্থ্যবিধি মেনে দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ত্বরান্বিত ও বিকশিত করার সুযোগ করে দেওয়া হোক।
—জয়নাল আবেদীন, শিক্ষার্থী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।
