করোনায় সংকটে নেত্রকোনার বাদ্যযন্ত্র শিল্পীরা

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২০, ২১:১৯

শ্যামলেন্দু পাল, নেত্রকোনা প্রতিনিধি

সাহিত্য সংস্কৃতি আর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জেলা নেত্রকোনা। বিয়ের অনুষ্ঠান হোক আর পূজা পার্বণ হোক এখানে বাদ্য বাজনা বাজনো একটা রীতি। উত্সব আসলেই সবার আগে মনে হয় ঢাক, ঢোলসহ নানা বাদ্যযন্ত্রের বাজনার কথা।  ব্যান্ড পার্টি থাকবেই। কিন্তু করোনার কারণে গত আট মাস যাবত্ ব্যান্ড পার্টি একেবারে নিষিদ্ধ। এই কয়েক মাসে কোথাও শোনা যায়নি তাদের যন্ত্রের সুরধ্বনি বা লহড়ি। উত্সবের মাস খানেক পূর্ব থেকেই তারা বায়না পেত। আনন্দে থাকত তারা। এবার তাদের জীবন চলছে নিরানন্দে। নেত্রকোনা জেলার পাঁচ শতাধিক পরিবার রয়েছেন অসহায় অবস্থার মধ্যে।

নেত্রকোনা জেলার ব্যান্ড পার্টির লোকজন হয়তো ভেবেছিল, হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজায় এবার তাদের ডাকা হবে। যাত্রা দলে ডাকা হবে। কিন্তু ডাক পড়েনি। পূজা উদ্যাপন পরিষদের নিষেধাজ্ঞা থাকায় এবং সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে ব্যান্ড পার্টি নিষিদ্ধ হয়ে যায় পূজামণ্ডপে। নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার নারায়ণডহর এলাকার অর্ধশত পরিবার জন্মগতভাবে পূজাসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে তাদের সংসার চালায়। শুধু পূর্বধলাই নয়, জেলাসদর, বারহাট্টা, মোহনগঞ্জসহ বেশ কিছু স্থানের অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবার এই বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে জড়িত। যুগ যুগ ধরে এই মানুষগুলোর প্রধান পেশা বাদ্যযন্ত্র বাজানো। বিভিন্ন উত্সবে বাজনা বাজিয়ে তাদের জীবন-জীবিকা চলে। শারদীয় দুর্গোত্সবকে সামনে নিয়ে বেশ আশা ছিল এই মানুষগুলোর। কিন্তু পূজোয় বাদ্যযন্ত্র না বাজানোর সিদ্ধান্তে এখন চোখে-মুখে অন্ধকার এসব পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষগুলোর। যাত্রা বন্ধ থাকায় সেখানেও ডাক পড়ে না। গত কয়েক মাস ধরে কাজের বায়না নেই। শারদীয় উত্সবকে সামনে রেখে বায়না হবে এই আশায় ধারদেনা করে সংসারের খরচ জুগিয়েছেন। এখন দেনা পরিশোধ হবে কীভাবে সে চিন্তায় তারা ব্যাকুল। নেত্রকোনা শহরের সাতপাই এলাকার কর্নেট বাদক রফিক মিয়া এবং আশুমিয়া বলেন, কারোনা শুরুর পর থেকে বিবাহ বা অন্যান্য অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা অসহায় অবস্থার মধ্যে আছি। ভেবেছিলাম, এবার পূজার সময় ডাক পাব, কিন্তু তাও হয়নি। যাত্রাও বন্ধ।

নেত্রকোনা জেলা যাত্রা শিল্পী সমিতির সভাপতি দিদারুল ইসলাম বলেন, যাত্রা বন্ধ থাকায় ব্যান্ড পার্টিও বন্ধ। তারা এখন বেকার। কেউ তাদের ডাকছে না। তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সরকারের উচিত তাদের সহায়তা করা। নেত্রকোনা জেলার কালচারাল অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ব্যান্ড পার্টির লোকজন এখন অসহায় অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। তারা কাজ পাচ্ছেন না। তারা প্রণোদনাও পাননি। নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক কাজী আব্দুর রহমান বলেন, এই সম্প্রদায়ের লোকজন করোনার কারণে কাজ পাচ্ছে না। তাদের জন্য তিনি জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন বলে জানান।