তানভীর তারেক
করোনাকালে অডিও ইন্ডাস্ট্রিতে যখন নানা সংকটের খবর শোনা যাচ্ছে, ঠিক এর মধ্যে বেশি কিছু গান ভাইরাল হয়েছে। তবে এসব নিয়ে বিতর্কেরও কমতি নেই। সর্বশেষ বিতর্ক ওঠে মেহের আফরোজ শাওন ও চঞ্চল চৌধুরীর গাওয়া ‘সর্বোত মঙ্গল রাধে’ গানটি ইউটিউবে প্রকাশের পর। আয়োজক আইপিডিসির চ্যানেলে এটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার ভেতরেই ভাইরাল হয়। নানা স্তরের মানুষ গানটির গায়কি ও পারফরমেন্সের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বলা যায়, অনেক দিন পর কোনো গান মুগ্ধতা ছড়াল। কিন্তু কপিরাইট বিতর্কে গানটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় আইপিডিসি।
এ প্রসঙ্গে আয়োজক আইপিডিসি জানায়, বাঙালির আপন সংস্কৃতিকে আরো সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি এর সঙ্গে সংযুক্ত সব শিল্পী, গীতিকার, সুরকার ও কলাকুশলীদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন ‘আইপিডিসি আমাদের গান’ এর লক্ষ্য। এই লক্ষ্য পূরণে সবার দায়িত্বশীল সহযোগিতা একান্ত কাম্য। দেশীয় শিল্পের স্বার্থে বিষয়টির একটি সুষ্ঠু সমাধান খুব জলদি সম্ভব হবে। সুধি দর্শক-শ্রোতাদের এই সময়টুকু ধৈর্য সহকারে অপেক্ষার অনুরোধ রইল।
জানা গেছে, ‘সর্বোত মঙ্গল রাধে’ গানটি সরলপুর নামের একটি ব্যান্ড তাদের নিজস্ব গান হিসেবে কপিরাইট করে নেয়। সেই নথি প্রমাণাদির তথ্যভিত্তিতেই গানটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় আইপিডিসি। এসব বিতর্কের অনেক আগেই সুমী মীর্জা নামের একজন শিল্পী লেজার ভিশনের ব্যানারে এই গানটি প্রকাশ করেছিল। তখনই একবার সরলপুর ব্যান্ডের সঙ্গে এই গানের স্বত্ব নিয়ে একটি বাহাস তৈরি হয়। পরবর্তীতে কপিরাইট রেজিস্ট্রি অফিস সরলপুরকেই গানটির অধিকার দেয়। তখন সরলপুর জানায় গানটির কিছু অংশ তাদের লেখা। অথচ গানটি একজন বাউলের কাছ থেকে সংগৃহীত হলেও তার নাম কোথাও উল্লেখ যেমন সরলপুরও করেনি, তেমনি করেননি পার্থ বড়ুয়া বা আইপিডিসি।
এ প্রসঙ্গে চঞ্চল চৌধুরী ও শাওনের গাওয়া গানটির সংগীত আয়োজক পার্থ বড়ুয়া ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা কোনো বিতর্ক চাই না। কারণ এটা তো আর জমি বা দুর্গ দখলের মতো কোনো বিষয় নয়। কপিরাইট ইস্যুতেই যেহেতু সংকটটা তৈরি হয়েছে। তাই আমরা কপিরাইট অফিসেই এটার ফয়সালা করতে চাই।’
সরলপুর ব্যান্ডের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে জানানো হয়, তাদের কাছে কোনো অনুমতি নেয়নি বা আলোচনা করেনি গানের ব্যাপারে। গানটি তারা দীর্ঘদিন ধরে স্টেজ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে পারফরম করে আসছে।
গানটির কণ্ঠশিল্পী মেহের আফরোজ শাওন বলেন, প্রথমত সর্বোত মঙ্গল রাধে গানটি প্রচলিত সুর। আমি ছোটবেলা থেকে এই গানটি গেয়ে আসছি। তাই এ গানটি নিয়ে এ ধরনের সংকটে পড়ব তা আমাদের কখনো-ই মাথায় ছিল না। বরং গাইবার সময় অন্য অনেকে কীভাবে গানটি কাভার করেছে চেক করতে গিয়ে দেখি এ গানটি প্রায় ২৫ রকম ভার্সন আছে। আরেকটা বিষয় হলো, আমরা তো শিল্পী। এটা তো যুদ্ধ ক্ষেত্র না। তারা আমাদের একটা ফোন করতে পারতেন। তা না করে গানটাকে ইউটিউব থেকে নামিয়ে ফেলা খুবই দুঃখজনক। কারণ গানটির সঙ্গে আমাদের অনেকের দীর্ঘদিনের শ্রম ও ভালোবাসা জড়িত।
তবে শেষ খবর হলো, একটা সমঝোতার পথেই বিষয়টির সমাধান হচ্ছে। কপিরাইট অফিসেই বিষয়টি সুরাহা হবে বলে জানা যায়। গানটির আয়োজক পার্থ বড়ুয়া বলেন, পারস্পরিক আলোচনায় আমরা সমাধান বের করে পুনরায় গানটি আমাদের চ্যানেলে প্রকাশ করব খুব জলদি।
