যেখানে আমার সন্তান খুন হয়েছে, সেখানেই আমি মরতে চাই

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২০, ২৩:১৭

বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ‘পুলিশি নির্যাতনে’ রায়হান আহমদ হত্যার প্রধান নায়ক বরখাস্তকৃত এসআই আকবর ভূঁইয়াকে ঘটনার ১৪ দিন পরও গ্রেফতার করতে না পারায় অসন্তুোষ বাড়ছে। সিলেটের বিভিন্ন স্থানে এই হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। গতকাল রবিবার দিনভর রায়হানের মা সালমা বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সামনে অনশন করেন। এ সময় সালমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘যেখানে আমার সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে, সেখানেই আমি মরতে চাই।’ তার এমন হূদয়বিদারক বক্তব্য শুনে অনেকের চোখ ভিজে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টার দিকে পুলিশ ফাঁড়ির সামনে আমরণ অনশনে বসেন রায়হানের মাসহ পরিবারের সদস্যরা। তাদের মাথায় কাফনের কাপড় বাঁধা ছিল। তারা এসআই আকবরসহ হত্যায় জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান। এ সময় রায়হানের মা আরো বলেন, ‘এ ঘটনায় সম্পৃক্ত আকবরসহ সাত জনকে বরখাস্ত ও প্রত্যাহার করা হলেও তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়নি। আকবরসহ অন্যদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত অনশন চলবে।’ অবশ্য পরে বিকাল ৫টার দিকে রায়হানের মাকে জুস পান করিয়ে অনশন ভাঙান সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

টিটু ফের রিমান্ডে, আরো একজন গ্রেফতার :রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় সাময়িক বরখাস্তকৃত কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে গতকাল আদালতের মাধ্যমে আবারও তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পিবিআই। এর আগে তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। এছাড়া একই দিন রায়হানের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগকারী সাইদুর রহমানকে গ্রেফতার করে পিবিআই। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের ইন্সপেক্টর মাহিদুল ইসলাম জানান, সাইদুরকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তার দেওয়া খবরের ভিত্তিতেই রায়হানকে পুলিশ ধরে নিয়ে এসেছিল।

উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর ভোরে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ‘নির্যাতনে’ রায়হানের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রাতেই কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি। এ ঘটনায় ঐ ফাঁড়ির ইনচার্জ আকবরসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত এবং তিন জনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পিবিআই জানায়, তারা এসআই আকবরকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে।