রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) গঠিত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনকে ‘একপেশে’ এবং ‘পক্ষপাতমূলক’ আখ্যায়িত করে তার বিরুদ্ধ আনীত অভিযোগসমূহ প্রমাণের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ তাজউদ্দিন আহমদ সিনেট ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
রাবি উপাচার্য বলেন, আমি দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত বড় বড় আর্থিক দুর্নীতি ও অনিয়ম যেমন—ঢাকাস্থ অতিথিভবন ক্রয়ে ১৩ কোটি টাকা, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে হেকেপ প্রকল্পের সাড়ে ৩ কোটি টাকা এবং শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক নির্মাণে ৮০ লাখ টাকা তছরুপের বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সিন্ডিকেট কর্তৃক তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। এরপরই বর্ণিত অপকর্মে সংশ্লিষ্টরা আমার বিরুদ্ধে নিরন্তর অসত্য, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ এবং পত্র-পত্রিকাসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করতে থাকে।
তিনি বলেন, প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ নামধারী কতিপয় দুর্নীতিপরায়ণ শিক্ষক নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতেই সরকার ও স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের যোগসাজশে আমার বিরুদ্ধে অসত্য অভিযোগসমূহ উত্থাপন করে একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়কে অশান্ত ও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, অন্যদিকে সরকারকেও বিব্রত করছে। এরাই মূলত ২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নির্বাচনে জামায়াত-বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করে।
উপাচার্য বলেন, যে কোনো অভিযোগের তদন্তের বিরুদ্ধে আমি নই। তবে আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহের তদন্ত হতে হবে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে। এ বিষয়ে আমি গত ৯ সেপ্টেম্বর ইউজিসি চেয়ারম্যানকে পত্র দিয়েছিলাম। আশা করেছিলাম, সেই পত্র বিবেচনায় চেয়ারম্যান পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। কিন্তু তা বাস্তবে ঘটেনি। বরং মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি ইতিমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। যা একপেশে এবং পক্ষপাতমূলক। তাই আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ প্রমাণের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এম এ বারী, প্রক্টর অধ্যাপক লুত্ফর রহমান, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. আজিজুর রহমানসহ হল প্রাধ্যক্ষ, বিভাগীয় প্রধান ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন
