ডোনাল্ড ট্রাম্প, নাকি জো বাইডেন?

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২০, ২১:২৩

সাইফুল ইসলাম হাফিজ

মার্কিন নির্বাচনের আর মাত্র ছয় দিন বাকি। শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় খুবই ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনী আমেজ। ইতিমধ্যে প্রেসিডেন্ট পছন্দ করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে। এক-চতুর্থাংশ ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন। ভোট উত্সব সামনে রেখে সর্বত্রই আলোচনা চলছে প্রধান দুই প্রার্থীকে নিয়ে। সব কৌতূহলোদ্দীপক আলোচনা আর সমালোচনার ইতি টানে একটি প্রশ্ন; ট্রাম্প নাকি বাইডেন? এই প্রশ্নটি শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই না পৃথিবীর প্রায় দেশের মানুষের মাথায়ও ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রভাবশালী দেশ, সংস্থা, গণমাধ্যম, রাজনীতিবিদ, বিশ্লেষক, বুদ্ধিজীবীসহ প্রায় মহলে একটিই প্রশ্ন—ট্রাম্প নাকি বাইডেন? এই জল্পনা-কল্পনাময় প্রশ্নের জবাবে কয়েকটি সমীকরণ সামনে এসে যায়। যে সমীকরণই বলতে পারে—কে হবেন বিজয়ী। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটই প্রধান ভূমিকা রাখে। বহিরাগত হস্তক্ষেপও প্রভাবিত করে ঢের। মাঝে মাঝে মিরাকলও ঘটে! সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সাড়ে ১৫ কোটি ভোটারদের রায়। জনগণ যাকে তাদের অভিভাবক হিসেবে পছন্দ করবেন, তিনিই হবেন প্রেসিডেন্ট। গণমাধ্যম ও জরিপ পরিচালনাকারী সংস্থাগুলো ভোটারদের মনোভাব পরীক্ষা করেই কিছু আগাম সংকেত দিয়ে থাকে। প্রার্থীরা নির্বাচিত হতে সভা-সমাবেশ, বিতর্কে জোর প্রচারণা চালান ভোটারদের মন জয় করতেই। এ লক্ষ্যে নির্বাচনের আগে তার পদক্ষেপ সম্পর্কে ইশতেহার ঘোষণা করেন। যার প্রতিশ্রুতি দেশের জন্য মঙ্গলকর, যাকে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়, জনতার রায় তার পক্ষেই যায়। আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে প্রধান দুই প্রার্থী ট্রাম্প ও বাইডেন দুজনেই ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। ট্রাম্প ও বাইডেনের পরিকল্পনায় জলবায়ু, কর, স্বাস্থ্য সেবা ও অভিভাসনসহ বেশ কয়েকটি ইস্যুতে ভিন্নতা লক্ষণীয়। ক্ষমতায় এসে ২০১৭-র ১ জুন প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এই চুক্তিতে ফিরে গিয়ে নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা বলেছেন বাইডেন। এ ছাড়া আরো কয়েকটি বিষয়সহ বৈশ্বিক উন্নয়নে বাইডেনের দৃষ্টিভঙ্গি ট্রাম্পের চেয়ে ইতিবাচক মনে হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক সমর্থন অন্তত নির্বাচিত হতে তেমন ভূমিকা রাখে না। কারণ, ভোট দেওয়ার অধিকার কেবল যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদেরই রয়েছে। তাই ট্রাম্প জোর দিয়েছেন অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোতে। করোনার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় প্রথম ১০ মাসে ১ কোটি কর্মসংস্থান তৈরি এবং নাগরিকদের ওপর কর কমানোর প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের। এখানে ট্রাম্পের উলটো করলেন বাইডেন। তিনি আরো কর বৃদ্ধির কথা বলেছেন। বাইডেন অবশ্য ‘বিল্ড ব্যাক বেটার’ স্লোগানকে সামনে রেখে অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণের কথা বলেছেন। যার মুখ্য উদ্দেশ্য হলো তরুণ ও শ্রমজীবীদের ভোট পক্ষে নেওয়া। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ট্রাম্প চীন নির্ভরতা কমিয়ে আমেরিকার পণ্য টিকিয়ে রাখার পক্ষে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চীন ইস্যুতে বাইডেনের অবস্থান ধোঁয়াশাপূর্ণ। তার প্রতিশ্রুতি ‘যুক্তরাষ্ট্রপন্থি এক বাণিজ্য কৌশল’র। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’—এই স্লোগানকে পররাষ্ট্রনীতি হিসেবে গ্রহণ করলেও গত চার বছরে অনেক দেশ ও চুক্তি থেকেই নিজেদেরকে গুটিয়ে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। আরব-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিক করা ছাড়া তেমন কোনো সাফল্য নেই। বাইডেনের মূল অঙ্গীকার হলো বিশ্বে আমেরিকার নেতৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। ট্রাম্প শুরু থেকেই স্বাস্থ্যসেবায় ‘ওবামা কেয়ার’-এর বিরুদ্ধে। বাইডেন এর পক্ষে মতামত ব্যক্ত করে নতুন পরিকল্পনাও ব্যক্ত করেছেন। ট্রাম্প অস্ত্র আইন শিথিল করার পক্ষে বললেও বাইডেন নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে অস্ত্র আইন আরো কড়াকড়ি করার ঘোষণা দেন। ভোটারদের দৃষ্টিতে যার প্রতিশ্রুতি যত জনবান্ধব হবে সেই সাফল্য পাবে। বাইরের কেউ ভোট দিতে না পারলেও বৈশ্বিক সমর্থন একেবারেই যে কোনো প্রভাব ফেলে না—তা নয়। ২০১৬-র নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক হয়েছে বেশ। যার দ্বারা বড় রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থ হাসিল হবে তাকেই ক্ষমতায় বসাতে চেষ্টা করবে। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী চীনসহ কয়েকটি দেশ ফের ট্রাম্পকেই চাচ্ছে। ট্রাম্প ‘একলা চল’ নীতির জন্য বিভিন্ন সংস্থা ও আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় তারা সেই স্থান দখল করতে পেরেছে। ঠান্ডা মস্তিষ্ক ও চতুর বুদ্ধি সম্পন্ন কেউ এসে তাদের প্রতিযোগিতা আরো কঠিন করে তুলুক—এটা তারা চায় না। রাশিয়া, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার হস্তক্ষেপে নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত হতে পারে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। এ ছাড়াও ২০১৬ সালের ন্যায় যদি মিরাকল ঘটে, তাহলেও নির্বাচনের মোড় ঘুরে যেতে পারে। বিতর্কে বাইডেন এগিয়ে থাকলেও ট্রাম্প এবারও আশাবাদী। তবে ট্রাম্প নাকি বাইডেন? এর সাচ্চা জবাব পেতে ৩ নভেম্বর পর্যন্তই আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।

n লেখক :শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়