মিথ্যা ঘোষণার পণ্য খালাসে অভিনব জালিয়াতি

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২০, ২১:৪৮

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি ও ভুয়া

সিপি দিয়ে পণ্য খালাসের চেষ্টা ধরা পড়েছে

চট্টগ্রাম অফিস

মিথ্যা ঘোষণার একটি পণ্যচালান ধরা পড়ার পর আমদানিকারককে ৭০ লাখ টাকা জরিমানা করে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ কর্তৃপক্ষ। তবে পণ্য খালাসের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ক্লিয়ারেন্স পারমিট বা সিপি জমা দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়। কিন্তু এখানেও প্রতারণা করে আমদানিকারক ও তার পক্ষে পণ্য খালাসের দায়িত্বে থাকা সিএন্ডএফ এজেন্ট। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভুয়া সিপি জমা দেয় তারা। শুধু তাই নয়, ঐ সিপির জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নামে আলাদা ভুয়া ওয়েবসাইটও তৈরি করে। তবে শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে গেছে শুল্ক কর্মকর্তাদের হাতে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের কমিশনার ফখরুল আলম ইত্তেফাককে জানান, ইতিপূর্বে যে সব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি মিথ্যা ও অর্ধেক পণ্য আমদানির জন্য চিহ্নিত হয়েছেন তাদের আমদানি পণ্যের কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বেশি নজর দেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমদানিকারক এবং সিএন্ডএফ এজেন্ট খান এন্টারপ্রাইজ কয়েকটি অপকর্ম করেছে। মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি করেছে। জালদলিল সৃজন করেছে এবং ভুয়া ওয়েবসাইট খুলেছে। ফলে ফৌজদারি অপরাধ, মানি লন্ডারিং এবং আইসিটি অ্যাক্টে অপরাধ করেছে।

কাস্টমসের তথ্যানুযায়ী, মালয়েশিয়া থেকে মিথ্যা ঘোষণায় গুঁড়াদুধ আমদানি করে তা ধরা পড়ার পর ঐ দুধ ছাড় করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভুয়া ওয়েবসাইট খুলে এবং ভুয়া ক্লিয়ারিং পারমিট (সিপি) দাখিল করলে জালিয়াতি ধরা পড়ে। ঢাকার মৌলভীবাজারের সিয়াম এন্টারপ্রাইজ নামক একটি প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়া থেকে ১৩ হাজার ৫২০ কেজি চীনাবাদাম ও ৪ হাজার ৫১০ কেজি অলিভ আমদানির ঘোষণা দেয় গত ১০ জানুয়ারি। কিন্তু পরবর্তীতে কাস্টমস কায়িক পরীক্ষা করে দেখতে পায়, মূলত আমদানি করা হয়েছে ২১ হাজার ৬০ কেজি নেসলে গুঁড়াদুধ। কাস্টমস মিথ্যা ঘোষণার অপরাধে আমদানিকারককে ৬৬ লাখ টাকা ব্যক্তিগত জরিমানা এবং ১০ লাখ টাকা বিমোচন জরিমানা করে। একই সঙ্গে পণ্যটি খালাস করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিপির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে। গত এপ্রিলের প্রথমে উক্ত নির্দেশনার পর দেখা যায় জালিয়াত চক্র গত ১১ অক্টোবর পণ্য ছাড় দেওয়ার পক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সিপি জমা দেয়। একই সঙ্গে ১৩ অক্টোবর আমদানিকারকের পক্ষে পিসির সমর্থনে মন্ত্রণালয়ের আরো একটি চিঠি দাখিল করে। এগুলোর মাধ্যমে দুষ্টচক্র মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য খালাস নিতে চায়। তবে শুল্ক কর্মকর্তাদের সন্দেহ হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ভুয়া পিসি এবং ভুয়া ওয়েবসাইট ধরা পড়ে।