স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর
রংপুরের আট উপজেলায় দফায় দফায় বন্যার ধকল না সামলাতেই আবার আমন ধানের খেতে ব্যাকটেরিয়া লিভ ব্লাইড (বিএলবি) বা কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। মাঠের পর মাঠ ধানখেতে কারেন্ট পোকার আক্রমণে ধান শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে দিশাহারা হয়ে পড়েছে আমনচাষি প্রান্তিক কৃষকরা। দেখতে ছোট ছোট বাদামি পোকার মতো এই ফড়িং ধানগাছের রস চুষে নিচ্ছে। দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ধানগাছ মরে হলুদ রং ধারণ করছে। এ পোকা প্রথমে ধান গাছের গোড়ায় আক্রমণ করায় কীটনাশক ছিটিয়েও দ্রুত দমন করা সম্ভব হচ্ছে না। রংপুর জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি রোপা আমন মৌসুমে রংপুর জেলার আট উপজেলার ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। যার মধ্যে বেশির ভাগ জমিতে চাষ হয়েছে স্বর্ণা জাত। এছাড়াও রয়েছে ব্রিড-৪৯ জাত। কৃষি বিভাগের হিসাবে চাষকৃত জমি থেকে ৪ লাখ হাজার ৯১ হাজার মেট্রিক টন ধান উত্পাদন হবে। রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার নিজপাড়া গ্রামের চাষি বোরাকুল ইসলাম জানান, আমার অনেক খেতে কারেন্ট পোকার আক্রমণ ধরেছে। কোনো ওষুধ কাজ করছে না। একই কথা বলেছেন, বিভিন্ন গ্রামের চাষিরা।
কাউনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল আলম জানান, তারা ইউনিয়ন ও মাঠ পর্যায়ে রোগবালাই দমন ও প্রতিরোধে নানা কৌশল এবং ওষুধের ব্যবহার বিষয়ে কৃষকদের ধারণা দিয়ে উঠান বৈঠক এবং লিফলেট বিতরণ করে যাচ্ছেন। দিনে গরম, রাতে শীত এবং গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলে এই পোকার আক্রমণ বাড়ে। তবে আমরা শুরু থেকে কৃষকদের সচেতন করার চেষ্টা করেছি। কারেন্ট পোকার আক্রমণ বেশি হলেও তা নিয়ন্ত্রণে আছে। রংপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ড. মো. সরোয়ারুল হক বলেন, আমরা কৃষকদের আলোক ফাঁদ তৈরি শিখিয়ে খেতে পোকা দমনের ব্যবস্থা করেছি। সদর থেকে শুরু করে গ্রামে গ্রামে কৃষকদের সচেতন করা হয়েছে। জেলার কোথাও পোকার তেমন আক্রমণের খবর নেই।
