শেষ সপ্তাহে ভোটের মাঠে জোর প্রচারে ট্রাম্প-বাইডেন

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০০:৩২

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর প্রায় এক সপ্তাহ বাকি। ৩ নভেম্বর ভোট। যদিও ভোটের আগেই ভোট শুরু হয়েছে অনেক আগেই। ইতিমধ্যে লাখ লাখ ভোট পড়েছে। ভোটকেন্দ্রে কৃষ্ণাঙ্গদের ভিড় আগের চেয়ে বেড়েছে। তারপরও থেমে নেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের প্রচারণা। সোমবার থেকে প্রচারণা আরো বেড়েছে। খবর সিএনএন ও ডয়চেভেলের

ডাকযোগে এবং আগাম ভোটের পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি। কিন্তু এখনো অনেক ভোটার আছেন যারা মনস্থির করতে পারেননি কাকে ভোট দেবেন। তাদের কাছে টানতেই করোনা মহামারির মধ্যেও প্রচারণার মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন ট্রাম্প ও বাইডেন। একে অপরকে সমালোচনায় বিদ্ধ করছেন। ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্যগুলোতেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধান দুই প্রার্থী। স্থানীয় সময় সোমবার ট্রাম্প পেনসিলভানিয়া রাজ্যে প্রচার চালাবেন। চলতি সপ্তাহে মিশিগান, উইসকনসিন, নেব্রাস্কা, অ্যারিজোনা ও নেভাদা রাজ্যও সফর করবেন। অন্যদিকে বাইডেন ডেলাওয়ার রাজ্যে নিজের ঘাঁটি আগলে সেখান থেকেই প্রচারে মনোযোগ দিচ্ছেন। মঙ্গলবার অবশ্য তিনি জর্জিয়ায় প্রচার চালাবেন। দক্ষিণের রক্ষণশীল রাজ্যগুলোতে সমর্থন আদায় করতে তিনি বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছেন। জনমত সমীক্ষায় দেশ জুড়ে এগিয়ে থাকলেও ফ্লোরিডা ও পেনসিলভানিয়ার মতো সুইং স্টেটকেও তিনি অবহেলা করছেন না। মঙ্গলবার তিনি অরলান্ডো শহরে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে এক জনসভায় ভাষণ দেবেন।

এদিকে দপ্তরের একাধিক ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স প্রচার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। হোয়াইট হাউজের চিফ অব স্টাফ মার্ক মেডোস রবিবার বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন মহামারি নিয়ন্ত্রণ করবে না। তার বদলে টিকা ও ওষুধের ওপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।

ট্রাম্প ভাইরাস মোকাবিলায় অগ্রগতির দাবি করলেও জো বাইডেন তার বিরুদ্ধে করোনার কাছে আত্মসমর্পণের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প শিবির আমেরিকার মানুষের সুরক্ষার মৌলিক দায়িত্বও ত্যাগ করেছে। বাইডেন এ প্রসঙ্গে মেডোসের মন্তব্যের উল্লেখ করে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই হাল ছেড়ে দিয়ে এই বিপদ উপেক্ষা করে এসেছে। তাদের আশা ছিল, করোনা ভাইরাস নিজে থেকে চলে যাবে। অথচ বাস্তবে তেমনটা ঘটেনি। ক্ষমতায় এলে বাইডেন দেশের সব মানুষের জন্য বিনামূল্যে করোনা ভাইরাসের টিকার ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ট্রাম্প শিবির বাইডেনকে অশীতিপর হিসেবে তুলে ধরে তার শারীরিক দুর্বলতার একটা চিত্র তুলে ধরছে। ৭৭ বছর বয়সী বাইডেন প্রচারের ধকল সহ্য করতে না পেরে গত বৃহস্পতিবারের বিতর্কের আগে পাঁচ দিন বিরতি নিয়েছিলেন বলে ট্রাম্প টিম দাবি করছে।

আগাম ভোটে কৃষ্ণাঙ্গদের ভিড়: ডাকযোগে ভোটের প্রবণতা সার্বিক ভোটদানের ওপর দেখা গেলে গত ১০০ বছরে সবচেয়ে বেশি মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে পূর্বাভাস দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, যত দিন যাচ্ছে আগাম ভোট দেওয়ার প্রবণতা তত বাড়ছে। গত দুই দশকে আগাম ভোটের পরিমাণ প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে। তবে করোনাকালে আগাম ভোটের সংখ্যা রেকর্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোটের এখনো এক সপ্তাহ বাকি থাকতেই ২০১৬ সালের আগাম ভোটের রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

আগাম ভোট এবং পোস্টাল ব্যালট নিয়ে অবশ্য বহু দিন থেকেই বিতর্ক শুরু করেছেন ট্রাম্প। তার বক্তব্য, এর ফলে কারচুপির যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। প্রথম প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কেও ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, আগাম ভোট এবং পোস্টাল ভোট বেশি পড়লে ভোটের ফলাফল নাও মানতে পারেন তিনি। যদিও তিনি নিজেই আগাম ভোট দিয়েছেন।

এদিকে বিভিন্ন রাজ্যে এবার ভোটকেন্দ্রে কৃষ্ণাঙ্গদের ভিড় বাড়ছে তারা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তারা বিশ্বাস করেন না। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত জর্জিয়ায় ৬ লাখের বেশি কৃষ্ণাঙ্গ ভোটার ভোট দিয়েছেন। ২০১৬ সালে নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে এ সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৮৪ হাজারের কিছু বেশি। মেরিল্যান্ডে ১ লাখ ৯২ হাজারের বেশি কৃষ্ণাঙ্গ ভোট দিয়েছেন যা একই সময়ে ২০১৬ সালে ছিল মাত্র ১৮ হাজার। ক্যালিফোর্নিয়ায় ৩ লাখ ৩ হাজারের বেশি ভোট পড়েছে কৃষ্ণাঙ্গদের যেখানে চার বছর আগের নির্বাচনে ছিল ১ লাখ ৬ হাজার ৩৬০ জন। মূলত ট্রাম্প আমলে কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর অত্যাচার বেড়েছে বলেই ধারণা কৃষ্ণাঙ্গদের।