শিবগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, পৌর মেয়রসহ আহত ১০

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২০, ২২:৪৭

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মাসিক সভা চলাকালে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ-ভাঙচুর, ধাওয়া-পালটা ধাওয়ায় পৌর মেয়রসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে মাসিক উন্নয়ন সভা চলাকালে মনাকষা ইউপি চেয়ারম্যান মীর্জা শাহাদাত হোসেন খুররমের সঙ্গে ইউপি পরিষদের সরকার কর্তৃক বিভিন্ন প্রকল্পের ন্যায্য প্রাপ্তি নিয়ে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়ার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় সভার প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য নিষেধ করলে চেয়ারম্যান খুররম সভাস্থল ত্যাগ করেন। সভা চলাকালে বাইরে অবস্থানকালে দুই গ্রুপের লোকজনের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটলে মনাকষা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমসহ ১০ জন আহত হন।

সংঘর্ষ চলাকালে মাসিক সভাকক্ষের পাশের রুমের কম্পিউটার, দরজা, চেয়ার-টেবিল, জানালাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে তারা। এতে এমপির সমর্থকের ৮-১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এদিকে খবর পেয়ে পুলিশ  ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কিন্তু কয়েক দফায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মী উপজেলা পরিষদ ভবনকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপে উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শিউলি বেগমের জানালা ভাঙচুর করে। এভাবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কয়েকদফা সংঘর্ষ চলে।

শেষ অবধি বিকাল ৪টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইকবাল হোছাইন ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শামসুল আলম শাহ বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনা স্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি। এখনো কেউ কোনো অভিযোগ করেননি।

পরে সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল ও পৌর মেয়র কারিবুল হক রাজিন পুলিশের প্রটোকলে ঘটনাস্থলে ত্যাগ করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাকিব আল রাব্বি জানান, কথা কাটাকাটির সময় পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য ব্যস্ত ছিলাম। এর বেশি কিছু জানি না। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম জানান, সভা চলাকালে মনাকষা ইউপি চেয়ারম্যান মির্জা শাহাদাত্ হোসেন খুররম মিয়া বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে দাবি তুললে সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এ পর্যায়ে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধলে মনাকষা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদি হাসান হিমেল, সাধারণ সম্পাদক আলী রাজ, দপ্তর সম্পাদক নজরুল ইসলামসহ পাঁচ জন আহত হন। পৌর মেয়র কারিবুল রাজিন বলেন, আওয়ামী লীগের  অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে ত্যাগ করার সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে আমার ও সংসদ সদস্যর পথ রোধ করে। এতে ছাত্রলীগের কর্মীদের দ্বারা মৌখিক ও শারীরিকভাবে দুই জনই লাঞ্ছিত হই। সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল বলেন, আমাদের দলে লবিং গ্রুপিং নেই। ছাত্রলীগ যুবলীগ সবাই আপন। সভা চলাকালে দুই জনের কথা কাটাকাটির সময় আমি থামার জন্য অনুরোধ করেছি মাত্র।