শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির মধ্যে ১১ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। আসামিদের ছয় জনের ১০ বছর করে, চার জনের পাঁচ বছর করে ও এক জনের তিন বছরের জেল হয়েছে। এছাড়া তিন জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত। বরগুনা শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান গতকাল মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় জনাকীর্ণ আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
১০ বছর করে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো—রাশিদুল হাসান রিশান ওরফে রিশান ফরাজী (১৭), রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদার (১৫), আবু আবদুল্লাহ্ ওরফে রায়হান (১৬), ওলিউল্লাহ্ ওরফে অলি (১৬), নাইম (১৭) এবং তানভীর হোসেন (১৭)। পাঁচ বছর দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো—জয় চন্দ্র সরকার ওরফে চন্দন (১৭), নাজমুল হাসান (১৪), রাকিবুল হাসান নিয়ামত (১৫) এবং সাইয়েদ মারুফ বিল্লাহ ওরফে মহিবুল্লাহ। তিন বছরের সাজা হয়েছে প্রিন্স মোল্লার। খালাস প্রাপ্তরা হলো—মারুফ মল্লিক, রাতুল শিকদার জয় এবং আরিয়ান হোসেন শ্রাবণ।
মঙ্গলবার দুপুর ১টা ১০ মিনিটে রায় পড়া শুরু করেন বিচারক হাফিজুর রহমান। আড়াইটায় রায় ঘোষণা করেন। গত ১৪ অক্টোবর দুই পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে মঙ্গলবার রায়ের দিন ধার্য করেছিলেন তিনি। রিফাত হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। আর আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন—শাহজাহান মিয়া, নারগীস পারভীন সুরমা, গোলাম মোস্তফা কাদের প্রমুখ।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিশেষ পিপি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ন্যায়বিচার পেয়েছেন বলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফও। আসামি পক্ষের আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন জানিয়েছেন। এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর এ মামলায় রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ছয় জনের ফাঁসি ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং চার জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের প্রধান ফটকে প্রকাশ্যে শত শত লোকের সামনে রিফাত শরীফকে (২৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে এ ঘটনার সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়।
আদালতে পুলিশের প্রতিবেদন দাখিলের পূর্বেই এ মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়। বহুল আলোচিত বরগুনার লোমহর্ষক রিফাত শরীফ হত্যা মামলাটির খুবই সংক্ষিপ্ত সময়ে মাত্র ১৬ মাসে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হলো।
