ব্যাবহারকারীকে নিরাপদে রাখতে ফেসবুকের উদ্যোগ

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২০, ২০:৫৬

মোজাহেদুল ইসলাম

 

পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সংযুক্ত থাকতেই গ্রাহকরা ফেসবুক ব্যবহার করেন। সারা বিশ্বের ২০০ কোটি মানুষ যেন তাদের প্রিয়জনদের সাথে নিরাপদে সংযুক্ত থাকতে পারেন এবং তাদের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো স্বাচ্ছন্দ্যে শেয়ার করতে পারেন সেজন্যই ফেসবুক কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। তাই ফেসবুক তাদের সেফটি পলিসি, টুলস, রিসোর্স ও বিভিন্ন সংস্থার সাথে অংশীদারিত্ব কীভাবে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের নিরাপদে রাখতে ব্যবহূত হয় সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য শেয়ার করেছে।

গত কয়েক বছরে ফেসবুক তাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করা সদস্যের পরিমাণ তিনগুণ বৃদ্ধি করেছে। ফেসবুকে নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা ৩৫ হাজার সদস্যের মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার জনই কন্টেন্ট পর্যালোচনা, যাচাই-বাছাই এর কাজে নিয়োজিত আছেন। এই দলে এমন সদস্যও আছেন যারা বাংলায় লেখা কন্টেন্ট পর্যালোচনা করেন।

কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড

ফেসবুক কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড-এ উল্লিখিত নীতিমালা নির্ধারণ করে ফেসবুকে কী শেয়ার করা যাবে আর কী করা যাবে না। এই কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড অনেক বিষয় বিবেচনা করে তৈরি করা হয়েছে।

যেমন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই নীতিমালায় আত্মহত্যা, নিজেকে আঘাত করার প্রবণতা, কাউকে উত্যক্ত করা, অন্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করা বা কাউকে যৌন হয়রানি করা ইত্যাদি ঘটনাগুলো যেন না ঘটে সে ব্যাপারে সপষ্টভাবে বলা আছে। এই নীতিমালাগুলো জননিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ফিডব্যাক এর উপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই নীতিমালাগুলো সারা বিশ্বের ফেসবুক ব্যবহারকারীদের জন্য প্রযোজ্য। এই নীতিমালা লঙ্ঘন করার কোনো সুযোগ নেই। আর যদি কেউ এই নীতিমালা লঙ্ঘন করেও, তা যেন বেশি সংখ্যক ব্যবহারকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত না করে সেজন্য ফেসবুক বিভিন্ন প্রযুক্তি, পদক্ষেপ এবং নিয়োজিত সদস্যদের দ্রুত কাজ করতে সহায়তা করার জন্য বিনিয়োগ করে থাকে।

 নীতিমালার প্রয়োগ

প্রযুক্তি, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের রিপোর্ট এবং রিভিউকারী দলের ফিডব্যাক এর উপর ভিত্তি করে আমরা যেসকল কন্টেন্ট আমাদের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড-এর বিরুদ্ধে যায় সেগুলো শনাক্ত ও পর্যালোচনা করি।

যদি কোনো পোস্ট নীতিমালা লঙ্ঘন করে তবে সেটি যারই হোক না তা আমরা ফেসবুক প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে ফেলি। আমরা প্রতিটি রিপোর্টকেই সমান গুরুত্ব দেই, একই পোস্ট বার বার রিপোর্ট করা গুরুত্বপূর্ণ নয়। যেসকল কন্টেন্ট ফেসবুকের নীতিমালা লঙ্ঘন করে সেগুলো সরিয়ে ফেলতে বিগত কয়েক বছর ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ফেসবুক অ্যালগরিদম দিন দিন আরও উন্নত হচ্ছে যার ফলে যেসকল পোস্ট আমাদের নীতিমালা লঙ্ঘন করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে সেগুলো কেউ দেখার আগেই সরিয়ে ফেলা সম্ভব হয়।

নিরাপত্তা

ফেসবুক ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চার ধাপে পদক্ষেপ নেয়া হয়।

১. সুনির্দিষ্ট নীতিমালা - ফেসবুকে কী শেয়ার বা পোস্ট করা যাবে এবং কী করা যাবে না সে সমপর্কে সুসপষ্ট নীতিমালা রয়েছে।

 ২. টুলস - ফেসবুকের এমন সব টুল রয়েছে যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের ফেসবুক হোমপেজে কী কী দেখতে চান এবং অন্য ব্যবহারকারীরা তাদের সমপর্কে কতোটুকু দেখতে পারবেন তা ব্যবহারকারীরা নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন এবং ক্ষতিকর পোস্টগুলো রিপোর্ট করতে পারেন।

৩. রিসোর্স - ফেসবুক ব্যবহারের সময় ব্যবহারকারীরা আমাদের রিসোর্স এবং ্তুহেল্প্থ অপশন কাজে লাগিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন।

 ৪. অন্যান্য সংস্থার সাথে অংশীদারিত্ব - আমরা বাংলাদেশ সহ সব দেশেই নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, একাডেমিক গবেষক, এনজিও, মানবাধিকারকর্মী এবং নীতিনির্ধারকদের দক্ষ দিকনির্দেশনা নিয়ে আমাদের নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি টুল ও সেফটি রিসোর্স তৈরি করি।