ঔদ্ধত্য গ্রহণযোগ্য নহে

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২০, ২১:২৬

দেশ স্বাধীন হইয়াছে প্রায় অর্ধশতক হইতে চলিল। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন ঘটিয়াছে। স্বাধীনতার পর হইতে দেশের কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য—সর্বক্ষেত্রেই অভাবনীয় উন্নয়ন সাধন ঘটিয়াছে এই কথা আজ অস্বীকার করিবার উপায় নাই। দেশের সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকার মান উন্নত হইয়াছে আর সচ্ছল হইয়াছে তাহাদের জীবনযাত্রা। ব্যবসায়-বাণিজ্যের সম্প্র্রসারণের সুবাদে বহু মানুষ অর্থ, বিত্ত, বৈভবের মালিকও হইয়াছে। তবে সকলেই যে সত্ পথে উপার্জন করিয়া বিত্ত-বৈভবের অধিকারী হইয়াছেন, তাহা বলা যাইবে না। বরং দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অনেকেই অসত্ ও অবৈধ পন্থায় নিজের পকেট ভারী করিয়া আঙুল ফুলিয়া কলাগাছ হইয়াছে। অর্থবিত্তের পাশাপাশি রাজনৈতিক ক্ষমতাও করায়ত্ত করিয়াছেন অনেকে। ক্ষমতা আর বৈভবের দম্ভে তাহারা নিজের পায়ের নিচের মাটির সন্ধান হারাইয়া ফেলেন। ইহাই হয়তো আমরা ঘনঘন ঘটিতে দেখিতেছি।

গণমাধ্যম, ইলেকট্রনিক মিডিয়া আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বহুল আলোচিত একটি ঘটনা আমাদের নজরে আসিয়াছে। রাজধানী ঢাকার সরকারদলীয় একজন সংসদ সদস্যের পুত্র, যিনি নিজেও সিটি করপোরেশনের একজন কাউন্সিলর—গত রবিবার রাত্রে ধানমন্ডির একটি সড়কে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করিয়া দেশের একটি নিয়মিত বাহিনীর একজন কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করিয়াছেন। ভুক্তভোগী নিজেকে রাষ্ট্রের বাহিনীর একজন কর্মকতা পরিচয় প্রদানের পরও আলোচিত সেই সংসদ সদস্যের পুত্র চরম ঔদ্ধত্য আচরণের পাশাপাশি তাহাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করিয়াছেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ত্বরিত পদক্ষেপে আসামি গ্রেফতার এবং দ্রুততম সময়ে বিচারের অধীনে লইয়া আসিবার বিষয়টি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। সাম্প্রতিক সময়ে সরকার দলীয় পরিচয়কে বিবেচনায় না লইয়া দুর্বৃত্তপনা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে আইনি সমাধানকেই প্রাধান্য দিতেছে। ইহা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক দিক। অতীতে আমরা এই ধরনের ঘটনা কমবেশি প্রত্যক্ষ করিয়া থাকিলেও বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে অধিক সংখ্যায় সম্মুখে চলিয়া আসিতেছে। মানুষ সচেতন হইয়াছে, প্রতিবাদে সরব হইতেছে। এমতাবস্থায় সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ হইতে দ্রুত গতিতে সমস্যা সমাধানের জন্য দায় কাঁধে তুলিয়া লইতেছে। আমরা আশা রাখি, কেবল সরকারের নিয়মিত বাহিনীর কর্মকর্তার ক্ষেত্রেই নহে, অথবা কোনো ঘটনা সামাজিক গণমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার কারণেই নহে, বরং সাধারণ্যের ক্ষেত্রেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্পরতা সমানভাবেই লক্ষ করা যাইবে।

দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি এক দিনে সাধিত হয় নাই। অনেক সংগ্রাম আর পরিশ্রমের ফসল আজিকার এই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। দুর্বল অর্থনীতির দেশ হইতে টিকসই উন্নয়নের যাত্রায় অনেকেই অনেকভাবে, বিশেষ করিয়া অবৈধভাবে সম্পদের মালিক হইয়াছে। তাহারা সেই অর্থসম্পদের শক্তিকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করিয়া থাকেন। তাহাদের সেই পেশিশক্তির জাঁতাকলে পিষ্ট হয় সাধারণ মানুষ। তবে ক্ষমতাশীল ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বগণ যদি আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হন, তাহা হইলে দেশে আইনের শাসনের পথ আরো সুগম হয়। দেশের উন্নয়নে কেবল অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিই নয় বরং আইনের শাসনও মুখ্য ভূমিকা পালন করিয়া থাকে।