জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম প্রমাণ মেলেনি অর্থ আত্মসাতের

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২০, ২২:১৭

আলোচিত ১০ মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের তদন্ত প্রতিবেদন

ইত্তেফাক রিপোর্ট

রাজধানীর নিকটবর্তী এলাকায় ১০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মেলেনি। তবে জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রাক্কলনে অতিরিক্ত মূল্য দেখানো হয়েছে বলে তিন সদস্যের তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে। আর এই সম্ভাব্য প্রাক্কলন গত মার্চ মাসেই প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটি সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু এই সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণে জেলা প্রশাসনসহ চার দপ্তরের সংশ্লিষ্টতা থাকলেও শুধু প্রকল্প পরিচালকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারাই প্রশ্ন তুলেছেন।

তথ্য অনুযায়ী, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ঢাকা শহরের নিকটবর্তী স্থানে ১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনে প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। এই প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। নানা অভিযোগে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কমিটি সম্প্রতি তাদের প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার নিকটবর্তী স্থানে ১০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির ছয়টি প্রকল্পের মধ্যে শুধু গাছপালা ও অবকাঠামো (যদি থাকে) উল্লেখ করে প্রায় ১০১ কোটি টাকার ওপরে অতিরিক্ত প্রাক্কলন করা হয়েছে এবং নারায়ণগঞ্জের একটি প্রকল্পে নালা শ্রেণির জমিকে ভিটি শ্রেণি দেখিয়ে প্রায় ২৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বেশি ধরা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আমিরুল ইসলামকে দায়ী করা হয়েছে ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে না দেখার জন্য। মাউশি অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক দিল আফরোজ বিনতে অছিরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে ডিসি অফিস থেকে প্রাপ্ত সম্ভাব্য মূল্য প্রাক্কলনের প্রতিটি পৃষ্ঠায় প্রতিস্বাক্ষর করার জন্য। ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সার্ভেয়ার তোফায়েল আহমেদকে অভিযুক্ত করা হয়েছে ঢাকার ছয়টি প্রকল্পের প্রাক্কলন তৈরির জন্য। নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্ভেয়ার মো. ইকবাল হোসেন, সার্ভেয়ার মো. বশিরউল্লাহ এবং কানুনগো আতিকুর রহমান মজুমদারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে নালা শ্রেণির জমিকে বাণিজ্যিক শ্রেণি দেখিয়ে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে প্রায় ২৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত সম্ভাব্য প্রাক্কলন তৈরির জন্য।

প্রকল্প পরিচালক ড. মো আমিরুল ইসলাম বলেন, গত মার্চেই সম্ভাব্য প্রাক্কলন সংবলিত ডিপিপি সংশোধনের সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ নীতিমালা অনুযায়ী গাছপালার মূল্য নির্ধারণ করবে বনবিভাগ, ঘরবাড়ি বা স্থাপনার চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ করবে গণপূর্ত বিভাগ এবং জমির মূল্য নির্ধারণ করবে জেলা প্রশাসন। অধিগ্রহণযোগ্য আটটি স্কুলের জমির কোনোটিই এখন পর্যন্ত মূল নির্ধারণ পর্যায়ে যায়নি। এই প্রকল্পে এ পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ১৩ কোটি টাকা, অথচ ৩০০ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছে, যা কল্পনাপ্রসূত ছাড়া আর কিছুই নয়।