মহানবি মুহম্মদ (স) মানবজাতির সর্বোত্তম আদর্শ

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২০, ২০:৩৫

ইসলামি বর্ষপঞ্জির তৃতীয় মাস রবিউল আউয়াল। মানবজাতির জন্য আশীর্বাদস্বরূপ হিজরি তৃতীয় এই মাসটির আজ ১২ রবিউল আউয়াল পবিত্র মিলাদুন্নবি (স) দিবস। মহানবি (স) যখন এ ধরায় আগমন করেন সেই যুগ ছিল আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগ। সে সময়ে গোটা জাতির ওপর অন্যায়-অত্যাচার, অবিচার, অস্থিরতা, নৈরাজ্য জেঁকে বসেছিল। যুদ্ধ-সংঘাত, রক্তপাত ছিল তখনকার নিত্যদিনের ঘটনা। সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়, মিথ্যা, অসত্য, কুসংস্কার, কুপ্রথা, নারীর অবমাননা, শোষণ, নিপীড়ন, ধর্মের নামে অধর্ম প্রভৃতি এমন কোনো দিক ছিল না যেখানে অবক্ষয় ও সংকট ভয়াবহ রূপ ধারণ করেনি। এমন অবস্থায় শান্তি, মুক্তি ও কল্যাণের বার্তা নিয়ে তিনি আগমন করেছিলেন। তার আগমনে জাহেলিয়াত, শিরক, পৌত্তলিকতা ও বর্বরতার ঘোর অমানিশায় নিমজ্জিত দুনিয়ায় হিদায়াতের আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে।

মহান আল্লাহর কাছে সৃষ্টিকুলের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হলেন রহমতের প্রতীক, করুণার আধার বিশ্বনবি মুহম্মদ (স)। আর এই জগদ্বাসীকে আল্লাহপাক তার প্রিয় হাবীবের সর্বোন্নত গুণের কথা জানিয়েছেন। মহানবি হজরত মুহম্মদ (স)-এর জীবনে রয়েছে মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। মহান আল্লাহপাক এরশাদ করেন, তোমাদের জন্য আল্লাহর রসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।’ (সুরা আল আহজাব, আয়াত ২১) রসুল (স)-এর চরিত্র সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহতায়ালা আরো এরশাদ করেন, ‘আপনি অবশ্যই উত্তম চরিত্রের অধিকারী’। (সুরা কালাম, আয়াত ৪০)। অন্য আয়াতে এরশাদ হয়েছে, হে নবি আপনি বলুন, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস তবে আমাকে অনুসরণ কর, তাতে আল্লাহও তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহ মাফ করবেন’। (সুরা নূর আয়াত ৫৪)। যারা নবি (স)-এর বিরোধিতা করবে তাদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, যারা নবি (স)-এর বিরুদ্ধাচরণ করে তারা এ বিষয়ে সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদের স্পর্শ করবে, যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদের গ্রাস করবে, (সুরা নূর, আয়াত ৬৩)।

মহান আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেন, যে কেউ আল্লাহর আনুগত্য করে এবং রসুলের অনুসরণ করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে’। (সুরা আহজাব, আয়াত ৭১) নবিজি বলেন, ‘আমার উম্মতের সব লোকই জান্নাতি হবে, অস্বীকারকারী ব্যতীত। জিগ্যেস করা হলো, হে আল্লাহর রসুল! অস্বীকারকারী কে? উত্তরে রসুল (স.) বললেন, যে আমার অনুসরণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে আমার নাফরমানী করবে সে অস্বীকারকারী’। (বুখারি, হাদিস নং ৩১৮৭২)। হজরত রসুলুল্লাহকে (স) অনুসরণের অর্থ হলো— তার আদর্শ গ্রহণ করা, ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে তার আদর্শ মেনে চলা। রসুল (স)-এর অনুসরণ ব্যতীত ইহ-পরকালে নাজাত পাওয়া নিতান্তই দুরূহ ব্যাপার। তার অনুসরণের মধ্যেই সব প্রকার সাফল্য নিহিত রয়েছে। মহান আল্লাহ আমাদেরকে সর্বক্ষেত্রে তার প্রিয় হাবীবের অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন!

lলেখক :কলামিস্ট ও প্রিন্সিপাল,

শ্রীমঙ্গল আইডিয়াল স্কুল, মৌলভীবাজার