ইসলামের দিশারি বিশ্ব মানবতার মুক্তিদূত মোহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ (স) শান্তির পয়গাম নিয়ে ভূপৃষ্ঠে আগমন করেন ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল। তিনি ছিলেন শান্তি নিরাপত্তা কল্যাণের মূর্ত প্রতীক ‘রহমাতাল্লিল আলামিন’। মানব সমাজের সর্বাঙ্গীন কল্যাণের লক্ষ্যে আল্লাহ তাআলা শান্তির বাণীবাহক ও দূতরূপে তাকে জগতে পাঠিয়েছিলেন। তিনি মানবজাতির প্রতি সত্য প্রচারে নিবিষ্ট হন এবং তাদের সরল সঠিক ও শান্তির পথে পরিচালিত করেন। যাতে তারা দুনিয়াতে সফলতা লাভ করতে পারে পারলৌকিক সৌভাগ্যও লাভ করতে সক্ষম হয়।
মহানবি মোহাম্মাদুর রসুলুল্লাহর (স) শান্তি প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ ও পদ্ধতি ছিল অনন্য। দল-মত-গোত্র নির্বিশেষে আরবের জাতি-ধর্ম-বর্ণ সবার মধ্যে শান্তিচুক্তি ও সন্ধি স্থাপনের মধ্য দিয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে তিনি সন্ত্রাসমুক্ত শান্তিপূর্ণ ও সত্যনিষ্ঠ সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। খুব অল্প সময়ে তার অনুপম চরিত্র-মাধুর্য ও সত্যনিষ্ঠতার কথা বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি যুদ্ধবাজ আরবদের শান্তির পতাকাতলে সমবেত করেন এবং বিবদমান গোত্রগুলো একটি সুসংহত জাতিতে রূপান্তরিত হয়। তিনি যুবক বয়সে ‘হিলফুল ফুযুল’ নামের শান্তিসংঘ গঠন করে অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। আর্তের সেবা করা, অত্যাচারীকে প্রতিরোধ করা, মযলুমকে সাহায্য করা, শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা এবং গোত্রীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা ছিল তার শান্তিসংঘের অঙ্গীকার বাণী। মানুষের কল্যাণে মহানবির (স) গড়া স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানটি সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এভাবে প্রাক্-নবুওয়াতি জীবনে মক্কায় অবস্থানকালে তিনি একটি সুস্থ সমাজ গঠনের অবকাঠামো দান করেছিলেন। মদিনায় হিজরতের পর নবিজি সেখানে শান্তিপূর্ণ ইসলামি সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। মদিনায় বসবাসরত মুসলমান, ইহুদি, খ্রিষ্টান, পৌত্তলিক প্রভৃতি সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরাজমান কলহ-বিবাদ, হিংসা-বিদ্বেষপূর্ণ অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে তিনি একটি ইসলামি সাধারণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার সংকল্প করেন। নবিজি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতাদের আহ্বান করে একটি বৈঠকে বসে তাদের বিশ্বমানবতার ঐক্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আবশ্যকতা বুঝিয়ে একটি সনদ প্রস্তুত করেন। মদিনায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সবাই এ সনদ মেনে শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। যা ‘মদিনা সনদ’ নামে পরিচিত। আল্লাহ আমাদেরকে মহানবি মোহাম্মাদুর রসুলুল্লাহর (স) দেখান নীতি-আদর্শ অনুসরণ করে সমাজের সর্বত্র শান্তি প্রতিষ্ঠার তাওফিক দান করুন। আমিন!
lলেখক :বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের ধর্মীয় উপস্থাপক ও আলোচক
