আম্ফানের আতঙ্ক কেটে গেলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আতঙ্ক কাটেনি উপকূলবর্তী কয়রাবাসীর। একই রকম দাকোপ, শ্যামনগর, পাইকগাছা উপজেলার লাখ লাখ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটায়। জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন ও অতিবর্ষণের সময় এ সব উপজেলার বেশির ভাগ মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল নেই। কয়রা উপজেলার কাটকাটা গ্রামের ফুলবাসী মুন্ডা (৫৫) জানান, প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হয়। প্রতি মুহূর্তেই যেন মৃত্যুর সংবাদ বয়ে আনে নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
কয়রা উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই উপজেলার ২ লাখ ৯৫ হাজার অধিবাসীর জন্য আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে ৩৭টি। এছাড়া সম্প্রতি আরো ১৯টি সাইক্লোন সেল্টার দেওয়া হয়েছে। এগুলো স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষপ্রতিষ্ঠানে অবস্থিত। জনসংখ্যার হিসাবে ২৫ শতাংশ মানুষের আশ্রয়স্থলের সুবিধা রয়েছে। গত ২০০৯ সালের ২৫ মে আইলার জলোচ্ছ্বাসে উপজেলার ৪১ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
উপেজলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাগর হোসেন সৈকত বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সার্বিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার অভাবে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হওয়ার আতঙ্কে রয়েছে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৩ লাখ মানুষ। যে জন্য দুর্যোগে হাইরেক্স জোন হিসেবে কয়রা এলাকায় পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার প্রয়োজন। কয়রা উপজেলা জলবায়ু পরিষদের সদস্য প্রধান শিক্ষক এস এম নুরুল আমিন নাহিন বলেন, উপকূলবর্তী কয়রাবাসীর জন্য দুর্যোগে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ধারণ ক্ষমতা অত্যন্ত কম। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে একটি করে আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানান। দক্ষিণ বেদকাশী ইউপি চেয়ারম্যান জি এম শামছুর রহমান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আমাদী ইউনিয়ন ছাড়া বাকি ছয়টি ইউনিয়নের গোটা এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অপরদিকে কয়রা সদর, দক্ষিণ ও উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নে আরো সাইক্লোন শেল্টারের প্রয়োজন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় উপকূলবাসীর আশ্রয়ের জন্য সরকারের তত্ত্বাবধায়নে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ প্রস্তাব জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, উপকূলবর্তী কয়রা উপজেলাবাসীর জন্য এখনো অনেক আশ্রয়কেন্দ্র প্রয়োজন।
