ফ্রান্সের নিস শহরের একটি গির্জায় ছুরি হামলায় তিন জন নিহত হয়েছেন যাদের মধ্যে এক নারীর শিরশ্ছেদ করা হয়েছে। সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে গুলির পর গ্রেফতার করা হয়েছে। হামলাকারীর পরিচয় পাওয়া গেছে। দেশটিতে এই ঘটনায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে সরকার। গতকালই সৌদি আরবে ফরাসি কনস্যুলেটের নিরাপত্তা প্রহরীকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। মুসলিম সংগঠন, ফ্রেঞ্চ কাউন্সিল অব দ্য মুসলিম ফেইথ নিস শহরে ছুরি হামলার নিন্দাসহ হতাহত ও তাদের পরিবারের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছে। এদিকে করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে ফরাসি প্রেসিডেন্ট দেশে দ্বিতীয় দফা লকডাউন দিয়েছেন। জার্মানি লকডাউন দিলেও তা ফ্রান্সের চেয়ে কিছুটা শিথিল। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের
হামলাকারীর পরিচয় জানা গেছে। ২১ বছর বয়সী ব্রাহিম অউসাউসুই নামের হামলাকারী তিউনিশিয়ার নাগরিক। ফ্রান্সের একটি তদন্ত কমিটির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, অক্টোবরেই ফ্রান্সে আসেন ব্রাহিম অউসাউসুই। এদিকে ফ্রান্সে গির্জা এবং স্কুলগুলোর নিরাপত্তায় আরো চার হাজার সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুলিশ কিছু না বললেও নিস শহরের মেয়র ক্রিশ্চিয়ান এসট্রসি নত্রে ডেম গির্জার মধ্যে এই সন্ত্রাসী হামলাকে ‘ইসলামি ফ্যাসিবাদ’ বলে আখ্যায়িত করে বলেছেন, সন্দেহভাজন হামলাকারী বারবার ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি দিচ্ছিলেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ। তিনি বলেছেন, ফ্রান্স তার মূল্যবোধ থেকে সরে আসবে না। হামলার তদন্ত শুরু করেছেন ফ্রান্সের জাতীয় সন্ত্রাস দমনবিষয়ক কৌঁসুলি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুইটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। নিস শহর ছাড়াও সৌদি আরবের জেদ্দায় ফরাসি কনস্যুলেটের বাইরে একজন রক্ষীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ঐ রক্ষীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
নিস শহরের ঘটনা সম্পর্কে যা জানা গেছে
নিহত তিন জনের মধ্যে দুই জন গির্জার ভেতর মারা গেছেন একজন বৃদ্ধা নারী এবং একজন পুরুষ। খবরে বলা হচ্ছে ঐ নারীকে গলাকাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে। আরেক জন নারী ছুরিকাহত অবস্থায় কাছের একটি কফির দোকানে পালিয়ে যেতে পারলেও পরে মারা যান। পরে খবরে জানা গেছে, একজন প্রত্যক্ষদর্শী শহরে যে বিশেষ সুরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে তার মাধ্যমে সতর্ক সংকেত দিতে সমর্থ হন। চার বছর আগে নিস শহরে এক ব্যক্তি সমুদ্র সৈকতে জনতার ভিড়ের ওপর ট্রাক চালিয়েছিল যাতে মারা যায় ৮৬ জন।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সের সৈকত এলাকায় মানুষজনকে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। দেশ জুড়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ। প্যারিসের জাতীয় পরিষদের অধিবেশনের মাঝখানে এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়।
ভারতের নিন্দা
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গতকাল ফ্রান্সে হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন। এর আগে বুধবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ম্যাক্রঁর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ আন্তর্জাতিক বিতর্কের মৌলিক মানের লংঘন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নৃশংস হামলায় শিক্ষক নিহতের ঘটনারও তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, যে কোনো পরিস্থিতিতেই বা কারণে সন্ত্রাসাবাদের কোনো ন্যায্যতা নেই। এই বিবৃতির পর নয়া দিল্লিতে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত ইমানুয়েল লেনাইন ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
ফের লকডাউন ফ্রান্সে
করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ ফ্রান্সে দ্বিতীয়বারের মতো দেশ জুড়ে লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন। এই পর্যায়ের লকডাউন নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত চলবে। ম্যাক্রঁ বলেছেন, শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন লকডাউনের ক্ষেত্রে শুধু চিকিত্সা অথবা জরুরি কাজের জন্য বাড়ি থেকে বের হতে পারবে মানুষ। তবে এই পর্যায়ে রেস্টুরেন্ট এবং পানশালা বন্ধ থাকলেও স্কুল ও কারখানা খোলা থাকবে। ফ্রান্সে মঙ্গলবার নতুন করে ৩৩ হাজার মানুষের মধ্যে কোভিড সংক্রমণ হয়েছে।
