প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে বৃহত্ শিল্প প্যাকেজের আকার দ্বিতীয় দফা বাড়ানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বৃহত্ শিল্পের ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে ঋণ দিতে ৩৩ হাজার কোটি টাকার তহবিল আরো ৭ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ৪০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হলো।
সব তপশিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো ঐ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নোভেল করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯)-এর প্রাদুর্ভাবের কারণে বাংলাদেশে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিতকরণ, শ্রমিক-কর্মচারীদের কাজে বহাল এবং উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখতে স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে গত ৫ এপ্রিল ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে ঋণ সুবিধা দিতে ৩০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে সচল রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারীদের জুলাই মাসের বেতন-ভাতা প্রদানের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা প্যাকেজটি ৩ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি করে ৩৩ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, নোভেল করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯)-এর কারণে দেশীয় মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহের পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে দেশে কার্যরত বিদেশি মালিকানাধীন এবং যৌথ মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এ সব প্রতিষ্ঠানসমূহের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উত্পাদন ও কর্মসংস্থান অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে এ মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে যে, এ প্যাকেজের আওতায় বর্ধিত ৭ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষতে অবস্থিত ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ টাইপ শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহের ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে ঋণ সুবিধা প্রদানের জন্য প্রযোজ্য হবে। উক্ত ঋণের সুদের হার হবে ৯ শতাংশ, যার মধ্যে ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ ভর্তুকি বাবদ প্রদান করবে সরকার।
আলোচ্য বর্ধিত সুবিধা থেকে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে ঋণ সুবিধা প্রদানসংক্রান্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে আগামী ৫ নভেম্বর ২০২০ তারিখ বিকাল ৪টার মধ্যে সফটকপিসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগে দাখিল করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হলো।
উল্লেখ্য, করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১ লাখ ৩ হাজার ১১৭ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেন।
