জাতীয় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে (আইপিএইচ) কর্মরত মুসলিম ধর্মাবলম্বী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পোশাক বিধি নির্ধারণ করে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পরই জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাতিল করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেছেন, ‘উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত সংবাদটির জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত এবং সকলের কাছে এই অনিচ্ছাকৃত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য অন্তরের অন্তস্থল থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং সেই সাথে গোটা জাতির কাছে বিনীতিভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং এই ধরনের ভুল হবে না বলে প্রতিজ্ঞা করছি।’
গত বুধবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক বলেছিলেন, ‘অফিস চলার সময় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোবাইল ফোনের শব্দ বা মোবাইল ফোন বন্ধ রাখতে হবে। ইনস্টিটিউটের পুরুষদের টাকনুর ওপরে এবং মহিলাদের হিজাবসহ টাকনুর নিচে কাপড় পরতে হবে।’ একইসঙ্গে পর্দা মেনে চলারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশের পরপর পরিচালক ডা. মুহাম্মদ আব্দুর রহিমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব শারমিন আক্তার জাহান কারণ দর্শানোর এই নোটিশ পাঠিয়ে তিন কর্মদিবসের মধ্যে তার জবাব দিতে বলেন ডা. রহিমকে। কারণ দর্শানোর নোটিশে রহিমকে বলা হয়েছে, ‘জারিকৃত বিজ্ঞপ্তিটি কোন বিধিবলে এবং কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জারি করা হয়েছে, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রেরণ করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল।’ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ১ নভেম্বর রবিবার এ বিষয়ে পরবর্তী তথ্য জানানো হবে।
এ বিষয়ে জানতে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম বলেন, ‘সরকারি চাকরিবিধি অনুসারে এটা তো উনি কোনোভাবেই করতে পারেন না। উনি এমন কোনো নোটিশ দিতে পারেন না। পাগল নাকি উনি!’ এর পরপর পরিচালক ডা. মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাতিল করে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন দেশবাসীর কাছে।
