আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকার গণতন্ত্র ও সুস্থ রাজনীতির স্বার্থে আরো সক্ষম এবং শক্তিশালী বিরোধীদল চায়। গতকাল বৃহস্পতিবার ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার ওপর খাতওয়ারি আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, সরকার বিএনপিকে শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল ভূমিকায় দেখতে চায়। আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় বিএনপিকে সহযোগী শক্তি হিসেবে চায়।
‘সরকার বিরাজনীতিকরণের পথে হাঁটছে এবং ষড়যন্ত্র করছে’ মর্মে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন অভিযোগের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কোনো দলকে রাজনীতিবিমুখ করা সরকারের কাজ নয়, কোনো এজেন্ডা নেই। বিএনপি তাদের ভুল রাজনীতির খেসারত দিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের ওপর মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে। নির্বাচনকে ভয় পেয়ে যারা নির্বাচনের দিন হঠাত্ করে সরে দাঁড়ায় এটা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তাদের হঠকারিতাই তাদের জনগণ থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। এই বিচ্ছিন্নতা বুঝতে পেরে বিএনপি বিরাজনীতিকরণের কল্পিত অভিযোগ আনছে সরকারের বিরুদ্ধে।’
ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনাসভায় যুক্ত হন। তিনি বলেন, ‘গত ১২ বছরে প্রায় সাড়ে ৪০০ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হয়েছে। আরো প্রায় সাড়ে ৪০০ কিলোমিটার চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলমান রয়েছে।’
২০৩০ সালের মধ্যে ছয়টি মেট্রোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, একটি রুটের কাজ এগিয়ে চলছে, দুটি রুটের ভৌত কাজ শিগিগরই শুরু হবে এবং বিআরটি প্রকল্পের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। মহানগরীতে পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে বাস রুট রেশনালাইজেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এফিশিয়েন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেমের জন্যও সমন্বয় জরুরি। পদ্মা সেতুতে এরই মধ্যে ৩৪টি স্প্যান বসানো সম্পূর্ণ হয়েছে, যা দৃশ্যমান এখন ৫ দশমিক ১ কিলোমিটার। বঙ্গবন্ধু কর্ণফুলী টানেলেরও দুটি টিউবের মধ্যে একটি টিউবের খননকাজ শেষ হয়েছে। অপরদিকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রথম ধাপের কাজ প্রায় ৫৬ ভাগ শেষ হয়েছে।
ভার্চুয়াল সভায় পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ও সিনিয়র সচিব সামসুল আলমের সভাপতিত্বে এতে আরো সংযুক্ত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার, আইসিটি বিভাগ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব এবং দপ্তর প্রধানরা।
