বিভিন্ন পোস্ট নিয়ে বিতর্কের জের ধরে মার্কিন সিনেটরদের জেরার মুখে সোশ্যাল মিডিয়ার তিন কর্তা। বুধবার বিশেষ শুনানিতে তলব করা হয়েছিল ফেসবুক, গুগল এবং টুইটারের প্রধান নির্বাহীদের। এ সময় বাগিবতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট সিনেটররাও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাইবার আইনের ২৩০ ধারা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
ফেসবুক, টুইটার এবং গুগলের মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় শালীনতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে সংস্থাগুলোর দায় কতটা, তা নিয়েই দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েন দুই দলের সিনেটররা। বেছে বেছে তাদের বক্তব্য সেন্সর করা হচ্ছে বলে সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন রিপাবলিকান সিনেটররা। ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মুখে বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট করা হলেও তা নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংস্থাগুলো।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ার কর্তৃত্ব খর্ব করতে অনেক দিন ধরেই সাইবার আইনের ২৩০ ধারা বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছেন। আমেরিকার সাইবার আইন (কমিউনিকেশন ডিসেন্সি অ্যাক্ট-এর ২৩০ ধারা) অনুযায়ী, সোশ্যাল মিডিয়ায় কারো রাজনৈতিক বক্তব্যের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দায়ী করা যায় না। তা নিয়েই শুনানি চলছিল। সেই আইনের পক্ষেই বক্তব্য দেন ফেসবুক (মার্ক জাকারবার্গ), টুইটার (জ্যাক ডর্সি) এবং গুগলের (সুন্দর পিচাই) প্রধান নির্বাহীরা (সিইও)। তাদের মতে, ঐ আইন বাক্স্বাধীনতা এবং সংযত বক্তব্যের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে। ঐ তিন সংস্থার সিইওই ঐকমত্যের ভিত্তিতে জানান, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফরমগুলোকে প্রকাশনা সংস্থা হিসেবে ধরা হলে কারো বক্তব্যের দায় তাদের নেওয়া উচিত। কিন্তু তারা কারো রাজনৈতিক মন্তব্যের ক্ষেত্রে রেফারির ভূমিকা পালন করতে নারাজ। তিন সংস্থার সিইওদের এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান সিনেটর টেড ক্রুজ। টুইটারের সিইও জ্যাক ডর্সির উদ্দেশে তিনি বলেন, কারা আপনাকে নির্বাচন করেছে এবং এই দায়িত্বে বসিয়েছে? তিনি আরো অভিযোগ করেন, টুইটার কর্তা তার বিপরীত রাজনৈতিক মতের বিশ্বাসীদের চুপ করিয়ে দিচ্ছেন। যদিও তা অস্বীকার করেছেন জ্যাক। —সিএনএন ও আনন্দবাজার পত্রিকা
