দোদুল্যমান রাজ্যে ভাগ্য ঝুলছে ট্রাম্প-বাইডেনের

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২০, ২১:২৯

 

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন কাল। শেষ সময়ে রিপাবলিকান প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটেলগ্রাউন্ড বা দোদুল্যমান রাজ্যে প্রচারণায় ব্যস্ত। যদিও বিভিন্ন জরিপে দেখা যাচ্ছে, জাতীয় পর্যায়ে ট্রাম্পের তুলনায় প্রায় ১০ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বাইডেন। কিন্তু হিসাব-নিকাশ আটকে গেছে ওই দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোতে। এই রাজ্যগুলোর ভোটই নির্বাচনে ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। এজন্য দুই প্রার্থীই বিভিন্ন ইস্যুতে এসব রাজ্যের সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। যুক্তরাষ্ট্র দুই শিবিরে বিভক্ত হলেও ফলাফলের সমতা ভাঙেন সিদ্ধান্তহীন ভোটাররা।

জাতীয় জরিপে জো বাইডেন এগিয়ে থাকলেই যে তিনি জয়ী হবেন এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন হিলারি ক্লিনটন। কিন্তু ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটে তিনি পরাজিত হন। আর প্রেসিডেন্ট হন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে জনসংখ্যার ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যক ইলেক্টোরাল ভোট আছে। নিয়ম হলো—দুটি ছাড়া প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে যে প্রার্থী সবচেয়ে বেশি পপুলার ভোট পাবেন, তিনি ওই রাজ্যের সবগুলো ইলেক্টোরাল ভোট জিতবেন। এইভাবে ৫৩৮ ইলেক্টোরাল ভোটের মধ্যে যে প্রার্থী ২৭০টি ভোট পাবেন- তিনিই হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।

যুক্তরাষ্ট্রে বেশিরভাগ অঙ্গরাজ্যে দুই দলের প্রভাব রয়েছে। কিছু রাজ্যে ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান প্রার্থীই জয়ী হন। ট্রাম্প জিততে পারেন এমন রিপাবলিকান অঙ্গরাজ্যগুলোতে ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের সংখ্যা ১৬৩। অন্যদিকে কিছু রাজ্যে বরাবরই ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা জয় পান। এজন্য বাইডেন জিততে পারেন এমন ডেমোক্র্যাট রাজ্যে ইলেক্টোরাল ভোট রয়েছে ২০৩টি। কিন্তু এর বাইরে কিছু অঙ্গরাজ্য আছে যেখানে নির্ধারিত হয় কে প্রেসিডেন্ট হবেন। এগুলোই দোদুল্যমান রাজ্য। ২০২০ সালের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ সুইং রাজ্যের সংখ্যা আটটি। এসব রাজ্যে ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের সংখ্যা ১২৫টি। নির্বাচনে জিততে ট্রাম্পকে বেশির ভাগ সুইং স্টেটে অবশ্যই জয় পেতে হবে। অন্যদিকে ট্রাম্পের চেয়ে কম সুইং স্টেটে জয় পেলে প্রেসিডেন্ট হতে পারেন বাইডেন।

যদিও গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, গতবার এই আট সুইং স্টেটে ট্রাম্প জয় পেলেও এবার সাতটিতেই এগিয়ে আছেন বাইডেন। ফ্লোরিডাতে ১ দশমিক ৯, পেনসিলভেনিয়াতে ৫ দশমিক ৮, মিশিগানে ৮ দশমিক ৪, নর্থ ক্যারোলিনাতে ২ দশমিক ১, অ্যারিজোনাতে ৩ দশমিক ৪ এবং উইকনসিনে ৭ দশমিক ৮ এবং আইওয়াতে ১ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন বাইডেন। আর ওহাইয়ো’তে ২ দশমিক ১ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে আছেন ট্রাম্প। ২০১৬ সালের নির্বাচনে পেনসিলভেনিয়া, মিশিগান ও উইসকনসিন ডেমোক্র্যাটদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন ট্রাম্প। কিন্তু এবার এগুলো হাতছাড়া হতে পারে তার। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের টেক্সাস তার হাতছাড়া হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এটা হলে নির্বাচনে জয় পাওয়া ট্রাম্পের জন্য অসম্ভব হতে পারে। আর টেক্সাসসহ রিপাবলিকান রাজ্যে জয় ধরে রেখে সুইং স্টেটগুলো দখলে নিতে পারলে আবারো প্রেসিডেন্ট হতে পারেন তিনি।

এদিকে ইতিমধ্যে সাড়ে আট কোটির বেশি মার্কিনি আগাম ভোট দিয়েছেন। তাদের মধ্যে সাড়ে পাঁচ কোটি ভোটার ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে রেকর্ড ১৫ কোটি ভোট পড়তে পারে। আর তাহলে ১৯০৮ সালের পর এবারই প্রথম ৬৫ শতাংশ ভোট পড়ছে কোনো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। কিন্তু এই আগাম ভোটের অর্থ কি? এই ভোটে কে সুবিধা পাবেন? বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনা সংকট ও অর্থনৈতিক দুরবস্থা বিবেচনা করলে ভোট বাইডেনের পক্ষে পড়ার কথা। কিন্তু অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যমান সমস্যার মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমেছে না বেড়েছে সেই প্রশ্নের উত্তর নেই কারো কাছে।