অনিশ্চয়তা আর আশঙ্কার ভোটের দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২০, ২২:৫৩

আগামীকাল ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। রিপাবলিকান প্রার্থী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চার বছরের জন্য আবারও থাকবেন, নাকি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হবেন, সেটা নির্ধারণ করবেন মার্কিন ভোটাররা। ইতিমধ্যে আগাম ভোটের রেকর্ড হয়েছে। এক শতাব্দী পর এবারই সর্বোচ্চ ভোট পড়তে যাচ্ছে। কিন্তু এর মধ্যেও অনিশ্চয়তা আর শঙ্কা দানা বাঁধছে মার্কিনিদের মধ্যে। কারণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরাজয় মেনে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেননি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিতে আঘাত হেনেছেন। যে দেশে ৪০ কোটি আগ্নেয়াস্ত্র সাধারণ মানুষের হাতে, সেখানে শীর্ষ রাজনীতিকের এমন অবস্থান দেশকে বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

এদিকে জাতীয় জরিপে এখনো বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন জো বাইডেন। বেশির ভাগ সুইং স্টেটেও (দোদুল্যমান রাজ্যে) এগিয়ে রয়েছেন তিনি। সিএনএন বলছে, ম্যাজিক ফিগার ২৭০ ইলেকটোরাল ভোট পাওয়ার কাছাকাছি বাইডেন। আর শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়াতে জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন ট্রাম্প। অনিশ্চয়তা আর শঙ্কার ভোট

বেশ কিছুদিন ধরেই সংঘাত আর সহিংসতার ঘটনা ঘটছে যুক্তরাষ্ট্রে। মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে পুলিশ হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গত গ্রীষ্ম জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ বড় শহরে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ, সহিংসতা, লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। অনেক শহরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারফিউ জারি করা হয়। ওয়াশিংটন পুড়েছে বাগদাদ শহরের মতো। ঐ সংকটের রেশ কাটতে না কাটতেই নির্বাচনি অনিশ্চয়তার মুখে মার্কিনিরা।

শনিবার টেক্সাসে ট্রাম্পের সমর্থকদের বাধায় প্রচারণা অনুষ্ঠান বাতিল করেছে বাইডেনের টিম। ট্রাম্পের সমর্থকেরা বাইডেনের প্রচার বাসের চারদিকে গাড়ি দিয়ে ঘিরে রেখে গতিরোধের চেষ্টা করে। বাইডেনের প্রচারণা বাসকে বাধা দেওয়ার ভিডিও টুইট করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি উচ্ছৃখল সমর্থকদের সমর্থন করেছেন। অন্যদিকে নর্থ ক্যারোলিনার গ্রাহামে একটি ভোটকেন্দ্র অভিমুখে পদযাত্রায় অংশ নেওয়া লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করতে মরিচের গুঁড়া (পেপার স্প্রে) ছুড়েছে স্থানীয় পুলিশ। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সমাবেশ অনিরাপদ ও বেআইনি মনে হওয়ায় পুলিশ এই পদক্ষেপ নিয়েছে। নির্বাচনের আগমুহূর্তে এ ধরনের ঘটনা মার্কিনিদের মনে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

ইতিমধ্যে নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় শহরে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ব্যবধান কমাতে মরিয়া ট্রাম্প

শেষ মুহূর্তে এসেও ট্রাম্পের চেয়ে বড় ব্যবধানে জাতীয় পর্যায়ে এগিয়ে রয়েছেন বাইডেন। সিএনএনের ভোটের হিসাব বলছে, বাইডেনের জেতার সম্ভাবনা রয়েছে এমন রাজ্যগুলোতে ইলেকটোরাল ভোট রয়েছে ২৯০টি এবং ট্রাম্প জিততে পারেন এমন রাজ্যে রয়েছে ১৬৩টি ইলেকটোরাল ভোট। এ অবস্থায় সুইং স্টেটগুলোতে অবশ্যই ট্রাম্পকে জিততে হবে। সেই হিসাব কষে প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি।

কিন্তু সর্বশেষ জরিপে বেশির ভাগ সুইং স্টেটেই এগিয়ে রয়েছেন বাইডেন। সিএনএন বলছে, এবার  পেনসিলভানিয়া, মিশিগান, অ্যারিজোনা ও উইসকনসিনে জয় পেতে পারেন বাইডেন। একই সঙ্গে রিপাবলিকানদের ঘাঁটি টেক্সাসে এবার জয় পেতে পারেন তিনি। টেক্সাস রাজ্যের ডেমোক্র্যাটদের দাবি, জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। স্থানীয় প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য ট্রিবিউনও এই রাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ী হওয়ার আভাস দিয়েছে। টেক্সাসে ৩৯টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট রয়েছে, যা রাজ্য হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই রাজ্যে হারলে নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়ানো ট্রাম্পের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এমন অবস্থায় প্রেসিডেন্ট হতে হলে টেক্সাসে জয় নিশ্চিত করে সব সুইং স্টেটে জয় পেতে হবে ট্রাম্পকে। 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পদ্ধতি জটিল। সারা দেশের ভোটে এগিয়ে থাকলেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ইলেকটোরাল কলেজ ভোটে। ৫৩৮টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের মধ্যে যিনি ২৭০ ভোট পাবেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। এই ৫৩৮ ভোটের মধ্যে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫, সিনেটের ১০০ এবং রাজধানী ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার (ওয়াশিংটন ডিসি) ৩ ভোট। একটি রাজ্যে যিনি সর্বোচ্চ ভোট পাবেন, তিনি ঐ রাজ্যের সব ইলেকটোরাল ভোট জিতবেন।