দেশ স্বাধীনের পর প্রথম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে অবসরে যাওয়া ৩৯ জন মুক্তিযোদ্ধাকে তাদের প্রাপ্যতা অনুযায়ী ‘ভূতাপেক্ষ’ পদোন্নতিসহ আনুষঙ্গিক সুবিধা ও পদমর্যাদা দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ২০০১ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ‘পদোন্নতি বঞ্চিত হওয়া’ ৩৯ জন কর্মকর্তার করা তিনটি রিটে জারিকৃত রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রবিবার এ রায় দেন। এ রায়ের ফলে অবসরে যাওয়া ৩৯ কর্মকর্তা ১৯৯৮ সালের ‘উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতি/নিয়োগের নীতিমালা’ অনুযায়ী প্রাপ্যতা অনুসারে পদোন্নতিসহ আনুষঙ্গিক সুবিধা ও পদমর্যাদা পাবেন বলে জানিয়েছেন রিটকারী পক্ষের আইনজীবী খোন্দকার রেজা-ই-রাব্বী। তবে আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০০২ সালের ‘উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতি/নিয়োগের বিধিমালা’ এই মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। রায়ের পর আইনজীবী রেজা-ই-রাব্বী সাংবাদিকদের বলেন, রিট আবেদনকারী ৩৯ জন মুক্তিযোদ্ধা। তাদের নিয়োগ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। তাদের পদোন্নতি জন্য ১৯৯৮ সালে একটি নীতিমালা করে সরকার। এই নীতিমালার আলোকে পদোন্নতি পেয়ে কেউ কেউ যুগ্মসচিব পর্যন্ত হয়েছেন। কিন্তু ২০০২ সালে নতুন মানদণ্ডে একটি বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়। এই মানদণ্ড করাই হয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়ার জন্য। এক পর্যায়ে ২০০২ সালে বিধিমালা অনুযায়ী এদের পদোন্নতি বঞ্চিত করে কনিষ্ঠদের পদোন্নতি দেওয়া হয়। অবশেষে আজকের রায়ের ফলে বঞ্চিত ৩৯ জন তাদের প্রাপ্যতা অনুযায়ী ‘ভূতাপেক্ষ’ অর্থাত্ অতীতে বঞ্চিত হয়ে পরবর্তীতে ন্যায্যতার রায় পেলেন। পদোন্নতি বঞ্চিত না হলে এই ৩৯ জনের মধ্যে ৩৭ জন সচিব, এক জন অতিরিক্ত সচিব ও এক জন যুগ্মসচিব হতেন।
