নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের কাজৈর ও ভিরিন্দা গ্রামের ফসলি জমির মাটি ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল নিরীহ মানুষের ফসলি জমি থেকে জোর করে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে ইটভাটায়।
সরেজমিনে কাজৈর গ্রামের কয়েকটি ফসলি জমি ঘুরে দেখা যায়, এক একটি জমিতে ৩ থেকে ৪টি ভ্যাকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। কয়েক মিনিট পর পর ট্রলি ভরে এসব মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে পার্শ্ববর্তী ইটভাটাগুলোতে।
জয়নাল নামে এক ভ্যাকু চালক জানান, গত এক সপ্তাহ যাবত্ তিনি এখান থেকে মাটি কাটছেন। ইটভাটার মালিক এসব জমি কৃষকদের থেকে কিনে নিয়েছেন। মালিকদের কথায় তারা এখান থেকে মাটি কাটছেন।
অপরদিকে ডাঙ্গার ভিরিন্দা দুই মাটি ব্যবসায়ী ওই গ্রামের প্রায় তিন বিঘা ফসলি জমিতে ভ্যাকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছেন। তাদের দাবি, কৃষকরা এই জমিতে ফসল ফলাতে না পেরে তাদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। তাই তারা জমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছেন।
এদিকে স্থানীয় কৃষকরা জানান, ফসলি জমির মাটি তারা বিক্রি করেননি। জোরপূর্বক কাটা হচ্ছে। জমির মধ্যখান থেকে গভীর খনন করে মাটি কাটার ফলে পাশের জমিগুলোও ভেঙে যাচ্ছে। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে ভাটার মালিকদের কাছে মাটি বিক্রি করছেন।
কাজৈর গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম জানান, সড়কপথে বেপরোয়া ট্রলি দিয়ে ইটভাটার মাটি আনা নেওয়ার ফলে গ্রামের সব রাস্তা ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া, মাটির ধূলায় আশপাশের ঘরবাড়ি ও সবজিবাগানেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
ইটভাটার মালিকরা জানান, কৃষকরা নিজেদের ইচ্ছায় মাটি বিক্রি করছেন। কেহই জবরদখল করেনি।
এদিকে ডাঙ্গা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সাবের উল হাই বলেন, ‘জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।’
পলাশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারহানা আলী বলেন, ‘ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার বিষয়টি আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
