তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২০, ২৩:০১

বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের তিস্তা নদী ঘিরে মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে গতকাল রবিবার নদীর দুই তীরে ৮৫টি স্থানে ২৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন করেছেন হাজার হাজার মানুষ। তিস্তা নদীর ভাঙন রোধ, নদী পুনঃখনন, নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়, ভাঙন কবলিত হাজার হাজার পরিবারকে পুনর্বাসনের দাবিতে এ মানববন্ধনে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন।

বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় তিস্তার দুই ধারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ‘তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহ্বানে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মুজিববর্ষে তিস্তা নদী ঘিরে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য মহাপরিকল্পনার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান আয়োজকরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রতি বছর তিস্তা নদীর বন্যা আর ভাঙনে লাখ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যা ও ভাঙনের হাত থেকে মুক্তি চায় নদী তীরবর্তী মানুষ। পুনঃখননের মাধ্যমে তিস্তা নদীর সুরক্ষা, দুই তীরের বন্যা ও ভাঙন রোধ করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়াসহ মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

বিভিন্ন স্থানে সমাবেশে বক্তব্য দেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক তুহিন ওয়াদুদ, রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নুরুজ্জামান খান, সংগ্রাম পরিষদের নেতা ড. এস এম শফিকুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট চিত্ত রঞ্জন রায়, নজরুল ইসলাম হক্কানী, শফিয়ার রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

জানা গেছে, প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরে ‘তিস্তা রিভার কমপ্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন’ প্রকল্পটি হবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় নদীর দুপাড়ে ২২০ কিলোমিটার গাইড বাঁধ নির্মাণ করা হবে। বাঁধের দুইপাশে থাকবে সমুদ্রসৈকতের মতো মেরিন ড্রাইভ। গড়ে তোলা হবে হোটেল, মোটেল, রেস্টুরেন্ট ও পর্যটন নগরী। রংপুর ও লালমনিরহাট হবে আধুনিক পরিকল্পিত শহর। সমাধান হবে বন্যা সমস্যার। চলতি বছরের নভেম্বর বা ডিসেম্বরে সরকারের সঙ্গে চীনের প্রকল্পটির চুক্তি এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরুর কথা রয়েছে ।