গাজীপুরে শিশুর মাথার খুলি ও হাড় উদ্ধার

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২০, ২১:৫৮

গাজীপুরের কাশিমপুরে বালির নিচে চাপা দেওয়া শিশুর মাথার খুলি ও হাড় উদ্ধারের ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেফতার করেছে গাজীপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গতকাল পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান। গ্রেফতারকৃতরা হলো—যশোরের ঝিকরগাছা থানার কুন্দিপুর এলাকার মো. আবদুল করিমের ছেলে মো. রাসেল ওরফে রাহুল ও গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানার বাগবাড়ী এলাকার নসিব সিকদারের ছেলে সবুজ মিয়া।

ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, গত ২৯ অক্টোবর গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর বাগবাড়ী এলাকার ক্যাপ ফ্যাক্টরির পশ্চিম পাশে নির্মাণাধীন পরিত্যক্ত একটি ভবনের বালুর নিচ থেকে অজ্ঞাতনামা পাঁচ বছরের কন্যাশিশুর মাথার খুলি, ১৯টি হাড়, চামড়া ও একটি হাফ প্যান্ট উদ্ধার করা হয়। শিশুটি ঐ এলাকার একটি বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. রফিকুল ইসলামের মেয়ে রিয়া মনি বলে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। শিশু নিখোঁজের ঘটনায় স্থানীয় কাশিমপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হলেও শিশুর লাশ উদ্ধারের পর এ ঘটনায় গত ৩০ অক্টোবর শিশুটির মা শ্যামলী বেগম অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেন। শিশুটির মা-বাবা স্থানীয় পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।

আলোচিত এ মামলাটি গাজীপুর পিবিআইয়ের হাতে ন্যস্ত হলে গত রবিবার রাতে যশোর জেলার ঝিকড়গাছা থানাধীন কুন্দিপুরের নিজ বাড়ি থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিশোর মো. রাসেল ওরফে মো. রাহুলকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া স্বীকারোক্তিতে বন্ধু সবুজ মিয়াকে তার বাড়ি কাশিমপুর বাগবাড়ী থেকে গ্রেফতার করা হয়।

পিবিআই পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তারা জানায়, দুজন মিলে শিশুটিকে বিভিন্ন সময় চকলেট ও বিস্কুট কিনে দিত। ঘটনার দিন গত ৯ আগস্ট সকালে তারা দুজনে মিলে রাসেলের ঘরের মধ্যে শিশুটিকে ধর্ষণ করে। ঘটনাটি বাবা-মাকে বলে দেওয়ার কথা বললে রাসেল ও সবুজ মিয়া মিলে শিশুটিকে গলা টিপে হত্যা করে লাশ বালুর নিচে চাপা দিয়ে রাখে। গ্রেফতারকৃতদের গতকাল গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।