‘নারীদের চোখে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে স্কুটি করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন চার তরুণী। বাংলাদেশকে উন্মোচনের সংকল্প তাদের। প্রাণভরে দেখতে চান সবুজে-শ্যামল বাংলাদেশের আসল মুখ। এছাড়াও আরেকটি লক্ষ্য আছে তাদের তা হলো- মেয়ে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা কৌশল শেখানো।
এই চারজন হলেন- ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ডা. সাকিয়া হক, ডা. মানসী সাহা তুলি, ইডেন মহিলা কলেজের পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী নাজমুন নাহার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী সিলভী রহমান। তারা ভ্রমণকন্যা নামে পরিচিত। ভ্রমণপ্রিয় মানুষদের ফেসবুকে একটি প্ল্যাটফর্ম হলো ট্রাভেলারস অব বাংলাদেশ। সেই ট্রাভেলারস অব বাংলাদেশ- ভ্রমণকন্যার ব্যানারে তারা ছুটে চলছেন দেশের এক জেলা থেকে অন্য জেলায়। জেলা ভ্রমণের পাশাপাশি শহর ও মফস্বলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে নারী শিক্ষার্থীদের আত্মরক্ষার কৌশল, নারীর ক্ষমতায়ন, বয়ঃসন্ধিকালে সমস্যা-সমাধান, খাদ্য ও পুষ্টি এবং সুরক্ষার কৌশল শেখান তারা। এ ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ এবং পর্যটন স্পট নিয়েও মাল্টিমিডিয়া প্রদর্শন ও আলোচনা করে থাকেন তারা। ভ্রমণের মাধ্যমে নারীদের সচেতন ও নারীদের জন্য সুস্থ পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে এই চারজন ইতোমধ্যে দেশের ৩৪টি জেলা ঘুরে বেড়িয়েছেন। গতকাল সোমবার প্রবেশ করেন ৩৫তম জেলা নীলফামারীতে। এসেই তারা নীলফামারীর ডোমার উপজেলার একটি গ্রামের স্কুল বেছে নেন। হরিণচরা ইউনিয়নের হংসরাজ দ্বিমুখী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিরেন্দ্র চন্দ্র রায় তাদের বরণ করে নেন। চারজনকে পেয়ে খুব খুশি গ্রামের ওই স্কুলের মেয়েরা।
প্রতিটি জেলার প্রশাসক ও সংবাদকর্মীরা সহযোগিতা করছেন তাদের। স্কুলের মেয়েরাও তাদের খুব আগ্রহ নিয়ে গ্রহণ করছে।
নিভৃত গ্রামের সেই স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী মনোয়ারা, অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী রাজিয়া আক্তার, নবম শ্রেণির ছাত্রী রানী আক্তার ও দশম শ্রেণির ছাত্রী রুবা আক্তার এই চারভ্রমণ কন্যাদের কাছে প্রশিক্ষণ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে জানায়, আমরা আগে অনেক কিছুই জানতাম না। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অনেক কিছু শিখতে পারলাম, জানতে পারলাম। আমরা ধন্যবাদ জানাই আপুদের।
ভ্রমণকন্যা ডা. সাকিয়া হক বলেন, ট্রাভেলারস অফ বাংলাদেশ থেকে আমরা এসেছি। এটি মেয়েদের ভ্রমণবিষয়ক প্রথম কোনো সংগঠন। আমরা স্কুটিতে ভ্রমণ করে প্রতিটি জেলায় একটি করে স্কুলে গিয়ে সেখানকার মেয়েদের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের কর্মশালা করছি। আমরা চাই দেশের প্রতিটি নারী নিজেদের দেশকে জানুক এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখুক।
তিনি জানান, আমরা চারজন গত বছরের ৬ এপ্রিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে যাত্রা শুরু করি। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, নড়াইল, যশোর, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চাঁদপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওসহ ৩৪টি জেলা ভ্রমণ করেছি।
নীলফামারী ভ্রমণ শেষে ধাপে ধাপে দিনাজপুর, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, বগুড়া, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর, পাবনা জেলায় ভ্রমণ করবেন।
