মালয়েশিয়া থেকে আমদানিকৃত ৬০০ গ্রাম ব্যয়বহুল মাদক 'আইস' উদ্ধারসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা রমনা বিভাগের একটি বিশেষ টিম। আটক মাদকের বাজারমূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা। এই মাদক ইয়াবার চেয়ে ১০০ গুন বেশি ক্ষতিকারক ও উত্তেজনা সৃষ্টিকারী । রাজধানীর গেণ্ডারিয়া, গুলশান, বনানী ও বসুন্ধরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- চন্দন রায়, সিরাজ, অভি, জুয়েল, রুবায়েদ ও ক্যানি। এ সময় তাদের হেফাজত হতে ৬০০ গ্রাম মাদকদ্রব্য ‘আইস’ উদ্ধার করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার এসব তথ্য জানান।
এ কে এম হাফিজ আক্তার জানান, 'আইস' বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একেবারেই নতুন মাদক। যা সেবু, ক্রিস্টাল ম্যাথ, ডি ম্যাথসহ বিভিন্ন নামে পরিচিত। এটি ক্ষুদ্র দানাদার জাতীয় মাদক যা ক্রিস্টাল আকারে দেশে আনা হয়। আইসের কেমিক্যাল নাম মেথান ফিটামিন যার উৎপত্তিস্থল অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও চায়না।
তিনি বলেন, এই চক্রের মূলহোতা চন্দন রায় তার প্রবাসী আত্মীয় শংকর বিশ্বাসের মাধ্যমে মালয়েশিয়া থেকে ব্যাগেজে করে বিমানযোগে দেশে আনতেন এটি। তিনি মূলত স্বর্ণ ব্যবসায়ি। আইসের মূল বাজার মূলত সমাজের উচ্চবিত্ত শ্রেণি। তাই নিম্ন বা মধ্যবিত্তদের পক্ষে এটি গ্রহণ করা সম্ভব নয়। উচ্চবিত্তদের বিভিন্ন পার্টি বা উচ্চবিত্ত সন্তানদের টার্গেট করে আইসের বাজার সৃষ্টির চেষ্টা করছিলো এই চক্রটি।
তিনি আরা বলেন, ক্রস্টাল পদ্ধতি আসা এই ড্রাগ ইয়াবা থেকে ৫০-৬০ ভাগ বেশি ক্ষতিকর। এই মাদক এক বার নিলে ৮-১০ হাজারেরও বেশি টাকা খরচ হয়, তাই উচ্চবিত্তের সন্তানেরা বেশি ব্যবহার করে থাকে। এদের টার্গেট গুলশান,বনানী ধানমন্ডির উচ্চবিত্তের সন্তানদের। এরা এই মাদকে গ্রাহক তৈরিতে সুন্দরি নারী মডেল ব্যবহার করে থাকতেন।
এটি মূলত স্নায়ু উত্তেজক মাদক, যা গ্রহণের ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় হরমোনের উত্তেজনা ১ হাজার গুন বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ব্রেন স্ট্রোক ও হার্ট স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এটির তীব্র রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে ধীরে ধীরে দাঁতও ক্ষয়ে যায়। এছাড়া, এটি গ্রহণে স্থায়ী হেলোসিনেশন সৃষ্টি হয়।
আইস ধূমপান আকারে, ইনজেক্ট করে এবং ট্যাবলেট হিসেবে তিনটি ফরমেশনে গ্রহণ করা যায়। তবে বাংলাদেশে ধূমপান আকারে ব্যবহারের বিষয়টি দেখা গেছে। এক্ষেত্রে কাঁচের পাইপের দ্বারা তৈরি বিশেষ পাত্র 'বং' ব্যবহার করা হয়।
ইত্তেফাক/এসআই
