শিবালয়ে পদ্মা বক্ষে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে!

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:৩৮

বাবুল আকতার মঞ্জুর, শিবালয় (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা

শিবালয় উপজেলার আরুয়া ইউনিয়নে পদ্মা বক্ষে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ পলি কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১৩ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার পর মাটি কাটা অব্যাহত থাকায় এলাকাবাসীর মাঝে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, তাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।

জানা গেছে, আরুয়া ইউনিয়নের পশ্চিমাংশের বিস্তীর্ণ এলাকা পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়। ঘর-বাড়ি হারিয়ে অসংখ্য মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়ে। পাটুরিয়া ঘাট থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দক্ষিণে পদ্মায় জেগে ওঠা বিল ভৈরব মৌজার বাঘুটিয়া-পাঁচুরিয়া গ্রামের নিকট দীর্ঘদিন যাবত্ অবৈধভাবে ড্রেজিং মেশিন বসিয়ে লাখ লাখ ঘনমিটার পলি কেটে নৌকায় ভরে নিয়ে যাচ্ছে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী। নদী ভাঙনের আশঙ্কায় নদী তীরবর্তী স্থানীয় লোকজন মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলে গত ১০ জানুয়ারি শিবালয় থানা পুলিশ ড্রেজিংকাজে যুক্ত ১৩ ব্যক্তিকে আটক করে; কিন্তু ‘অজ্ঞাত’ কারণে পুলিশ এদের ছেড়ে দিলে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। ছাড়া পাওয়া ব্যক্তিরা পুনরায় নদী বক্ষে বিপুল উত্সাহে মাটি কাটার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বিশাল আকৃতির ৩/৪টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি কেটে বড়-বড় নৌকায় করে অজানা গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অনুসন্ধানকালে ড্রেজারের লোকজন সাংবাদিকদের ছবি তুলতে নিষেধ করে ও তথ্য দিতে অপারগতা জানায়।

এদিকে নদীর মাটি কাটার বিরুদ্ধে সোচ্চার এলাকাবাসী আরুয়া দেবীনগর জামে মসজিদ মাঠে শনিবার রাতে এক সভায় মিলিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় বাসিন্দা সাবেক এমপি অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ খান। তিনি জানান, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে উপস্থিত জনতা এসব অবৈধ ড্রেজিং বন্ধ ও সাজ-সরঞ্জাম উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, দুই-একদিনের মধ্যে এ সব অবৈধ ড্রেজার না সরালে এলাকাবাসী বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহণ করবে। তবে শিবালয় থানার ওসি মিজানুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, নিয়ম মেনেই ওই স্থানে পলি কাটার কাজ চলছে।