দিনাজপুরে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত বাড়ছে করোনার সংক্রমণ

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২০, ২১:১৩

দেশের উত্তরের জেলা শহর দিনাজপুরে ঘুরলে দেখে বোঝার উপায় নেই যে, এটা করোনাকাল চলছে। অধিকাংশ মানুষের মুখে নেই কোনো মাস্ক, কেউ তোয়াক্কা করছেন না স্বাস্থ্যবিধি, শহরের বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বিঘ্নে চলছে জনসমাগম, স্বাভাবিক নিয়মেই চলছে সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি। করোনা রোগী বাড়তে শুরু করলেও স্বাস্থ্যবিধি মানার ন্যূনতম কোনো চিহ্ন নেই এই শহরে।

দিনাজপুর জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর জেলায় প্রথম করোনা ভাইরাস রোগী শনাক্ত হয় গত ১৪ এপ্রিল। প্রথম দিনেই এই জেলায় সাত জন রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ক্রমেই করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। সবশেষ গত বুধবার পর্যন্ত দিনাজপুর জেলায় করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয় ৩ হাজার ৬৯৬ জনের। এর মধ্যে মারা যায় ৭৮ জন। আর সুস্থ হয়ে উঠেছে ৩ হাজার ৫২৭ জন। বর্তমানে করোনা আক্রান্ত রোগী রয়েছে ৮৯ জন। এদিকে গত ১৪ এপ্রিল দিনাজপুরে প্রথম করোনা ভাইরাস রোগী শনাক্ত হওয়ার পর প্রতিদিন অস্বাভাবিক হারে বাড়তে শুরু করে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা। অস্বাভাবিক হারে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি হওয়ায় সংক্রমণ কমাতে দিনাজপুরে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে। বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি ভীড় এড়ানোর জন্য শহরের বাহাদুরবাজার থেকে সবজি, মাছ, মাংস ও মুরগির বাজার সরিয়ে দিনাজপুর বড় ময়দানে স্থানান্তর করা হয়। পরে স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের নানা কার্যক্রমে দিনাজপুরে কমতে শুরু করে সংক্রমণ। প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ জন পর্যন্ত আক্রান্ত হলেও গত দুইমাস আগে করোনা সংক্রমণ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে।

কিন্তু এরপর আবার সবকিছু স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে। প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে দিনাজপুর বড় ময়দান থেকে সবজি, মাছ, মাংস ও মুরগির বাজার আবার বাহাদুরবাজারে এসেছে। দিনাজপুর শহরে এখন মাস্ক ছাড়াই ঘোরাফেরা করছে মানুষ। স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই চলছে সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান। সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে, যেনো করোনা মহামারির কথা ভুলেই গেছে এই জেলার মানুষ। এই অবস্থায় দিনাজপুর জেলায় করোনা সংক্রমণ শূন্যের কোঠায় নেমে আসলেও আবার বাড়তে শুরু করেছে করোনা সংক্রমণ। গত কয়েক দিন থেকে প্রতিদিন বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। গত ১০ অক্টোবর দিনাজপুর জেলায় ৫৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে এক জন রোগী পাওয়া না গেলেও এরপর বাড়তে শুরু করে রোগীর সংখ্যা। এরপর প্রতিদিন চার-পাঁচ জন করে রোগী বাড়তে শুরু করে। দিনাজপুর সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার ৪৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১২ জন এবং গত মঙ্গলবার ১২৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়।

দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুছ জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলায় দিনাজপুরে আবারও দিনে দিনে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি জানান, এই পরিস্থিতিতে গত কয়েকদিন আগেই ঢাকায় সভা করা হয়েছে। করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য আবার কর্মসূচি জোরদার করা হবে। সিভিল সার্জন বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে বাহাদুরবাজার থেকে সবজি, মাছ, মাংস ও মুরগির বাজার বড়মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তারা অনুমতি না নিয়েই আবার বাহাদুরবাজারে চলে এসেছে। এটা দুঃখজনক। করোনা সংক্রমণ রোধে এসব বাজারকে বড়মাঠেই রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এদিকে করোনা সংক্রমণ রোধে গত বুধবার দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক মাইকিং বের করা হয়েছে।