ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

ভবনের ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২০, ২১:২৪

ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে চিকিত্সা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক রোগী ভয়ে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। রোগী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার এই হাসপাতালের ছাদ থেকে একবার পলেস্তারা খসে পড়ে। এ অবস্থায় ভয়ে হাসপাতাল ছাড়েন কয়েক জন রোগী। বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনাটি ঘটেছে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় ডায়রিয়া ওয়ার্ডে। দুই তলাবিশিষ্ট মূল ভবনের দ্বিতীয় তলায় পুরুষ ওয়ার্ড ও ডায়রিয়া ওয়ার্ড। ইতিমধ্যে ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ছাদের পলেস্তারা খসে রড বের হয়ে গেছে। এ ছাড়া, ওই দুই ওয়ার্ড, মহিলা ওয়ার্ড, শিশু ওয়ার্ডসহ মূল ভবনের অন্যান্য কক্ষের ছাদ, দেয়াল ও বিমে ফাটল দেখা দিয়েছে। ভয়ে কয়েক জন রোগীকে হাসপাতাল ছাড়তে দেখা গেছে। ওয়ার্ড ছেড়ে কেউ কেউ বারান্দায় বা সিঁড়ির পাশে বিছানা পেতে আছেন।

শিশু ওয়ার্ডে চার মাসের সন্তানকে ভর্তি করানো মরিয়ম বিবি জানান, ছাদের পলেস্তারা ধসে লোহা বের হয়ে থাকার কারণে তিনি তার সন্তানকে নিয়ে মারাত্মক ভয়ের মধ্যে রয়েছেন। হাসপাতালের নার্স তত্ত্বাবধায়ক ফাহিমা বলেন, এর আগে যেসব দেয়াল ও বিমে ফাটল ছিল না, সেগুলোতে বুধবার থেকে বড় বড় ফাটল দেখা যাচ্ছে। ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ছাদের পলেস্তারা ভেঙে পড়ার সময় ওই ওয়ার্ডে অবস্থান করছিলেন রত্না বেগম ও শান্তা আক্তার। তাদের দুজনের কোলে ছিল ১১ মাস ও ১৬ মাস বয়সি ডায়রিয়া-আক্রান্ত শিশু। বর্তমানে ভয়ে তারা হাসপাতাল ছেড়েছেন। হাসপাতাল থেকে যাওয়ার সময় রত্না বেগম ও শান্তা আক্তার বলেন, ‘ছাদ ভেঙে পড়ার সময় মনে হচ্ছিল এই বুঝি মরলাম। বাচ্চা নিয়ে দৌড় দিয়ে বাইরে গিছিলাম। যে অবস্থা, এহেনে থাকে মরব নাকি।’

হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) মো. মাসুম আবির বলেন, গত মঙ্গলবার পলেস্তারা ভেঙে পড়ার পর স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর শরীয়তপুর (এইচইডি) সহকারী নূর মোহাম্মদ বুধবার দুপুরে পরিদর্শন করেন। বড় ধরনের ভবন ধসের আশঙ্কায় তারা মহিলা ওয়ার্ড ব্যবহার না করার জন্য সুপারিশ করেছেন। ভবনের অন্যান্য কক্ষও ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক থাকতে বলেছেন। এরপর বৃহস্পতিবার ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ছাদের এ ঘটনা ঘটে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারপরিকল্পনা কর্মকর্তা মেঘনাথ সাহা বলেন, ১৯৭২ সালে উপজেলায় ৩১ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করে সরকার। এর পর ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ১৯ শয্যার একটি নতুন তিনতলা আধুনিক ভবন নির্মাণ করে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তবে প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে ৫০ শয্যার কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি। এদিকে ৪৮ বছর আগে নির্মিত হাসপাতালের মূল ভবন অনেক আগেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। দ্রুত নতুন ভবন দরকার, না হলে এ উপজেলার স্বাস্থ্যসেবায় বড় বিপর্যয় ঘটবে। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এইচইডি) শরীয়তপুর সহকারী প্রকৌশলী নূর মোহাম্মদ বলেন, ঐ ভবন মেরামত করে লাভ হবে না। কারণ, রড, ইট ও সিমেন্টের কার্যক্ষমতা কমে গেছে। নতুন ভবনের জন্য আবেদন করতে হবে।