কাকিয়াছড়া ব্রিজে গর্ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২০, ২১:২৪

শ্রীমঙ্গল উপজেলার কাকিয়াছড়া ব্রিজের মাঝখানে ঢালাই ভেঙে সৃষ্টি হয়েছে গর্ত। দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন ওই ব্রিজের ওপর দিয়ে যাতায়াত করছে বিভিন্ন যানবাহন। যে কোনো সময় ব্রিজের একটি অংশ ধসে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার পৌর এলাকায় অবস্থিত দেশের অন্যতম পর্যটন এলাকা বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) হতে পার্শ্ববর্তী কালীঘাট ইউনিয়নের ফুলছড়া হয়ে শ্রীমঙ্গল শহর ও রাজঘাট যাওয়ার পথে কাকিয়াছড়ার ওপরে নির্মিত পাকা ব্রিজটির মাঝ বরাবর গোলাকার একটি গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সিমেন্টের ঢালাই আলাদা হয়ে রড দেবে গর্তটি দুর্ঘটনার ফাঁদে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ ছয়-সাত মাস ধরে ব্রিজটির এমন দশা। এছাড়া দুর্ঘটনা এড়াতে এখানে বিপজ্জনক কোনো চিহ্ন বা গতিরোধক ব্যবহার করা হচ্ছে না। ব্রিজের এক পাশের কোনায় নিচের দিকে ছোট করে ‘ঝুঁকিপূর্ণ কালভার্ট’ লিখা থাকলেও তা সহজে নজরে পড়ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দা বাদল বাকতি, রাজু চাষা, জয়রাম গড়, রণজিত্ চাষা বলেন, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চা-বাগানের ট্রাক্টর, ভ্যান, জিপ, কারসহ অসংখ্য রিকশা, বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, সিএনজি ও অটোরিকশা মালামাল ও যাত্রী নিয়ে চলাচল করে। এছাড়া প্রতিদিনই দেশি-বিদেশি অসংখ্য পর্যটক ছোট-বড় বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে এই রাস্তায় চলাচল করেন। প্রায় সময় যাত্রীবাহী এসব যানবাহন গর্তে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এ পথে নিয়মিত চলাচল করে এমন যানবাহনের চালক আকবর মিয়া, রাজেশ ঋষি, মনির হোসেন জানান, বিটিআরআই থেকে ফুলছড়া অভিমুখের রাস্তা থেকে ব্রিজটি অনেক উঁচুতে থাকায় ঐ ভাঙাটি সহজে কারো নজরে আসে না। ফলে অল্প গতির গাড়িও অনেক সময় হঠাত্ ব্রিজে উঠে ভাঙা অংশের মুখে পড়ে সামলে উঠতে পারে না। তাছাড়া, একটি গাড়ি অন্য আরেকটি গাড়িকে পাশ কাটিয়ে চলতে গিয়ে প্রায়ই ওই স্থানে দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটির ওপর দিয়ে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি মেরামত কিংবা নতুন ব্রিজ নির্মাণ না করায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তারা। কালীঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রাণেশ গোয়ালা জানান, ব্রিজটিতে দুর্ঘটনা এড়াতে তিনি গর্তের ওপরে কয়েকবার সিমেন্টের স্লাব বসিয়েছিলেন, তাও ভেঙে গেছে। ব্রিজ নির্মাণ বা মেরামত বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে ব্রিজ নির্মাণের মতো এতো বড় ফান্ড ইউনিয়ন অফিসে নেই। তবে ব্রিজটি নতুন করে নির্মাণের জন্য উপজেলা এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। শ্রীমঙ্গল উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সঞ্জয় মোহন সরকার জানান, বিষয়টি তাদের নজরে আছে। এ ব্যাপারে খুব দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।