ইঁদুর অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রাণী। এই ক্ষতির হিসাব করা খুবই কঠিন। যে কোনো পরিবেশে, যে কোনো খাবার খেয়ে বাঁচতে পারে। বাংলাদেশে ১৮ প্রজাতির ইঁদুর দেখা যায়। এদের বংশবৃদ্ধির হার অত্যধিক। সুষ্ঠু পরিবেশে একজোড়া ইঁদুর থেকে বছরে তিন হাজার ইঁদুর জন্মলাভ করতে পারে। ফসলের মাঠ থেকে শুরু করে নালা-নর্দমা, ডাস্টবিন, খাদ্যগুদাম, কারখানা, হোটেল-রেস্তোরাঁ, অফিস, দোকান, বাসাবাড়িতে সবখানে ইঁদুরের উপদ্রব আছে। প্রতিবছর দুই হাজার কোটি টাকার খাদ্যশস্য নষ্ট করে ইঁদুর। শুধু তাই নয়, দানাদার ফসল ছাড়াও ফলমূল, বইখাতা, আসবাবপত্র, কাপড়, বৈদ্যুতিক তার, যন্ত্রপাতি, বিভিন্ন ধরনের স্থাপনার ক্ষতি সাধন করে। ইঁদুরের মলমূত্র, লোম থেকে টাইফয়েড, জণ্ডিস ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন ধরনের রোগ ছড়ায়। প্রতিবছর ইঁদুর দ্বারা আবাদি ফসলের একটি বড় অংশ নষ্ট হচ্ছে। ফলে আমাদের দেশের কৃষকরা ফসল বাঁচাতে ইঁদুর নিধনে প্রচলিত পদ্ধতি ও বিষ প্রয়োগ করলেও কার্যকারিতা খুবই ক্ষণস্থায়ী। তাই ফসল উত্পাদন বৃদ্ধি, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ইঁদুরের সমস্যাকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা সময়ের দাবি। ইঁদুর কমাতে প্যাঁচা, গুঁইসাপ, বেজি, শিয়াল, বিড়াল, পরভোজী প্রাণী সংরক্ষণে গুরুত্ব দিতে হবে—পাশাপাশি কৃষকদের ইঁদুর মারার আধুনিক যন্ত্র ও প্রশিক্ষণ প্রদানসহ ইঁদুর নিধনে সরকারি-বেসরকারি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
মো. সাইমুন
চন্দনাইশ, চট্টগ্রাম
