পাবনায় বাড়ছে মুড়িকাটা পেঁয়াজের চাষ

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২০, ২১:১১

রুমী খোন্দকার, পাবনা প্রতিনিধি

পেঁয়াজের বাজার দর ভালো হওয়ায় পাবনাতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ বাড়ছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় কম-বেশি পেঁয়াজের আবাদ হলেও জেলার সুজানগর, সাঁথিয়া, সদর ও বেড়া উপজেলায় পেঁয়াজের আবাদ বেশি হয়। স্থানীয়ভাবে  ৪৫ টন পেঁয়াজের চাহিদা থাকলেও উত্পাদন হয় প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টন। মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিঘাপ্রতি সনকাবারি (এক বছর চুক্তি) জমিসহ কৃষকের খরচ হয় ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে বিঘা প্রতি উত্পাদন হয় ৪৫ থেকে ৫৫ মণ পেঁয়াজ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী জানান, এ বছর মুড়িকাটা, হালি ও দানা পেঁয়াজ মিলে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৫২ হাজার ৬৪০ হেক্টর। এরমধ্যে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৯ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে মুড়িকাটা পেঁয়াজ ৯ হাজার ৩৮০ হেক্টর এবং জেলায় উত্পাদন হয়েছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৯১০ টন পেঁয়াজ। বাজার দর ভালো হওয়ায় এ বছর মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ বাড়বে বলে ধারণা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের। সুজানগরের কৃষক ইসহাক আলী, সাঁথিয়ার আবদুস সাত্তার, সদর উপজেলার করিম শেখসহ অনেকে বলেন, এখন তারা যে পেঁয়াজ লাগাচ্ছেন, সে পেঁয়াজ উঠতে মাস আড়াই সময় লাগবে। এটি ঝুঁকিপূর্ণ একটি ফসল। আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকা মণ বিক্রি করতে পারলে তাদের একটু লাভ হবে। কৃষকরা অভিযোগ করেন, চাষাবাদের জন্য ব্যাংকে ঋণ চাইলেও কাঙ্ক্ষিত ঋণ পান না তারা।

পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবদুুল কাদের ইত্তেফাককে বলেন, এ বছর পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দানাসহ ৫২ হাজার ৬৪০ হেক্টর। ইতিমধ্যে এ বছর কৃষকরা মুড়িকাটা পেঁয়াজ অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে লাগানো শুরু করেছেন। এখন লাগানো প্রায় শেষের দিকে।

এ বছরের ডিসেম্বরের শেষ অথবা আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম দিকে এ পেঁয়াজ উঠবে। পেঁয়াজ চাষ করে কৃষকরা গত বছর লাভবান হওয়ায় এ বছর বেশি আবাদ করবেন বলে তিনি ধারণা করছেন। এছাড়া মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষে রোগবালাইসহ অন্যান্য ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে সচেতন করা হচ্ছে।