১০ ঘণ্টার ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে ডেমরার কোনাপাড়ার ঈশা খাঁ রোডের ভুট্টো চত্বরে অবস্থিত পাশা টাওয়ারের পঞ্চম তলা থেকে দশম তলায় থাকা সব ধরনের মালামাল। দেওয়ালে দেওয়ালে তৈরি হয়েছে পোড়া ক্ষত। ভবনের বাইরে থেকে দেখলেও সহজেই অনুমান করা যাবে আগুনের ভয়াবহতা। অথচ অগ্নিকাণ্ডের আগে এই ভবন থেকেই এনার্জি সেভিংস বাল্ব, এলইডি বাল্ব ও টিউবলাইটের মতো নানা রকম বাল্ব ফিটিং করা হতো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবাসিক ভবনে নিয়ম না মেনে তৈরি করা হয়েছিল গুদামটি। বাল্ব তৈরির কাঁচামাল দাহ্য হওয়ায় বাড়ে আগুনের তীব্রতা। ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, ষষ্ঠ তলায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে ঐ ভবনটিতে আগুন লাগে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট প্রায় ১০ ঘণ্টার চেষ্টায় রাত আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
গতকাল শুক্রবার সরেজমিন দেখা যায়, ঈশা খাঁ রোডে পরপর তিনটা দশম তলা ভবন রয়েছে। রাস্তার পাশের প্রথম ভবনটি পাশা টাওয়ার। যার পাঁচ তলা থেকে দশম তলা আগুনে পুড়ে কালো হয়ে আছে। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় এখনো বাল্বের মালামাল স্তরে স্তরে সাজানো রয়েছে। সিঁড়ি থেকে শুরু করে বাথরুম পর্যন্ত সব জায়গায় মালামালে ভর্তি।
পাশা এনার্জি লিমিটেডের মার্কেটিং প্রধান ইমরান হোসেন জানান, ভবনের প্রথম তলা থেকে শুরু করে দশম তলা পর্যন্ত এলইডি লাইট, টিউবলাইট, টিউব শেড, বক্স এগুলো রাখা ছিল। চীন থেকে কাঁচামাল এনে এখানে ফিটিং করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হয়। এ ভবনে আনুমানিক ১০ কোটি টাকার মতো মালামাল রয়েছে।
ভবনটির কর্মচারীরা জানিয়েছেন, পুরো ভবনটি পাশা এনার্জি লিমিটেড নামে একটি কোম্পানির। চীন থেকে বিভিন্ন ধরনের লাইট আমদানি করে রাখা হতো ঐ ভবনের সবগুলো ফ্লোরে। এরপর কোম্পানির লোগো লাগিয়ে প্যাকেটজাত করে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় থাকা ঐ কোম্পানির পাঁচটি শোরুমে সরবরাহ করা হতো।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেন বলেন, দশম তলাবিশিষ্ট ভবনটির প্রায় পুরোটাতেই দাহ্য পদার্থে ভরপুর ছিল। আগুন নেভানোর কাজ করার কোনো পরিবেশ ছিল না। একটি মাত্র সরু রাস্তা। ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লেগেছে। একই সঙ্গে ত্রুটিপূর্ণ ভবন নির্মাণের ফলেই আগুন নিয়ন্ত্রণে কষ্ট হয়েছে।
