কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহল ড্রেজার লাগিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীতে বিলীন হচ্ছে নদীর পাড়ের গ্রামের পর গ্রাম। এদিকে ঘরবাড়ি, ভিটামাটি ও সহায়সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব অসহায় নারী-পুরুষ চোখের পানি ফেলছেন। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত নদীপাড়ের বাসিন্দারা প্রভাবশালী বালু খেকোদের থেকে অবশিষ্ট সম্বল রক্ষাসহ বিচারের দাবিতে শুক্রবার উপজেলার রামপ্রসাদের চর গ্রামের নদীর পাড় এলাকায় সহস্রাধিক নারী-পুরুষ প্রতিবাদ সমাবেশ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য মো. নুরুল আমিন, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, রইস উদ্দিন মুকুল প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে গত ২০ বছরে এ ইউনিয়নের নদীপাড়ের মানুষের জমিজমা ও ঘরবাড়িসহ অন্তত ৪০০ কোটি টাকার সম্পদ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এ সময় নলচর গ্রাম শত ভাগ, রামপ্রসাদের চর গ্রাম ৮৫ ভাগ ও মৈশাচর গ্রামের ৫০ ভাগ নদীতে বিলীন হয়েছে। সমাবেশে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রতিষ্ঠান নদীর ভাসানিয়া দড়িচর এলাকায় বালু উত্তোলনের ইজারা নিয়ে সেখান থেকে বালু উত্তোলন না করে প্রভাব খাটিয়ে বেশ কয়েকটি ড্রেজার দিয়ে রামপ্রসাদের চর ও মৈশারচরসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এতে এসব এলাকার শত শত মানুষের বাড়িঘরসহ ভিটামাটি এরই মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
মেঘনা থানার ওসি মো. আব্দুল মজিদ বলেন, মাঝেমধ্যে ঐ এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়ে থাকে। কিন্তু এলাকাটি দুর্গম, তাই বালু উত্তোলনের সময় তাদের হাতেনাতে ধরা যায় না। এরপরও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
