যাদের আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২০, ২২:০৪

 

ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিলেও

রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক

ইত্তেফাক রিপোর্ট

চলতি মাসে দেশব্যাপী করদাতারা তাদের গত আয় বছরের (২০১৯-২০) আয় ব্যয়ের হিসাব এবং করযোগ্য আয় নির্ণয় করে প্রযোজ্য কর সরকারের ঘরে জমা দেবেন। এটি আয়কর বিবরণী বা ট্যাক্স রিটার্ন নামে পরিচিত। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এই রিটার্ন জমা দিতে হবে। ৩০ নভেম্বরের পরে জমা দিলে প্রতি মাসে জন্য প্রযোজ্য করের ওপর দুই শতাংশ হারে জরিমানা গুণতে হবে। এজন্য বেশিরভাগ করদাতা ঝামেলা ও হয়রানি এড়াতে এই সময়ের মধ্যেই আয়কর রিটার্ন জমা দিয়ে থাকেন।

কাদের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক, তা হয়তো অনেকেই জানেন না। ১৯৯৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশের ৮৫ ধারায় আয়কর বিবরণী জমা কাদের ওপর প্রযোজ্য, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলা আছে। একই সঙ্গে কাদের ওপর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়, তাও উল্লেখ রয়েছে।

করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (ই-টিআইএন) যাদের রয়েছে, সামান্য কিছু ব্যতিক্রম বাদে তাদের প্রায় সবারই আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক। বর্তমানে দেশে ই-টিআইএনধারীর সংখ্য ৪০ লাখের ওপরে। এর প্রায় সবারই আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে। কাদের রিটার্ন জমা দিতে হবে না, তাও এই লেখায় উল্লেখ করা হবে।

গত বছরে কারো আয় ৩ লাখ টাকা অতিক্রম করলে তাকে রিটার্ন জমা দিতে হবে। গত তিন বছরে কোনো ব্যক্তি বা কোম্পানির আয়কর প্রযোজ্য হয়ে থাকলে তাকেও এবার ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিতে হবে। এছাড়া কোনো নিবন্ধিত ফার্ম, কো-অপারেটিভ সোসাইটি, কোনো ব্যক্তি সংঘ, কোনো কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডার কর্মী, কোনো ফার্মের অংশীদারকে রিটার্ন জমা দিতে হবে। কোনো চাকরিজীবীর মাসিক মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা হলেই রিটার্ন জমা দিতে হবে। রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতার তালিকায় রয়েছে কোনো ব্যবসা বা পেশার কর্মী যদি নির্বাহী বা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকেন, মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি হতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোনো ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশে অবস্থানরত কোনো বিদেশির স্থাবর সম্পত্তি থাকলে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যাদের ওপর কর অব্যাহতি প্রযোজ্য নয়, মোটর গাড়ির মালিক হলে, কোনো নিবন্ধিন ক্লাবের সদস্য হলে, কোনো সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ হতে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করলে, ডাক্তার, ডেন্টিস্ট, আইনজীবী, হিসাববিদ, প্রকৌশলী, স্থাপতি, সার্ভেয়ার বা এ জাতীয় কোনো পেশাজীবী বডির নিবন্ধিত হলে তাকেও রিটার্ন জমা দিতে হবে। এছাড়া সংসদ সদস্য, সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার নির্বাচনে প্রার্থী হলে, আয়কর প্র্যাকটিশনার হিসেবে নিবন্ধিত; সরকারি, আধাসরকরি, স্বায়ত্তশাসিত  বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো টেন্ডারে অংশ নিলে, অস্ত্রের লইসেন্স থাকলেও আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে।

তবে এর বাইরে কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে রিটার্ন প্রদানের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো সরকারের এমপিওভুক্ত (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কোনো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, যেসব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশের স্থাবর সম্পত্তি নেই, যেসব বিদেশি বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে থাকেন না, যাদের জমি বিক্রির সময় টিআইএন নিতে হয়েছে কিন্তু করযোগ্য আয় নেই, যাদের ক্রেডিট কার্ড রয়েছে কিন্তু করযোগ্য আয় নেই—এমন ব্যক্তিরও রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।