ঐক্যের ডাক বাইডেনের

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২০, ২২:৪২

যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে একতাবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সব বিভেদ ভুলে ঐক্য ও সহনশীল সমাজ গড়ে তুলতে মার্কিনিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর শনিবার রাতে ডেলাওয়ারের উইলমিংটনে দেওয়া বিজয় ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনই প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে ফেরার উদ্যোগ নেবেন। নির্বাহী আদেশ জারির মাধ্যমে কয়েকটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা বাতিল করবেন।

ভাষণে বাইডেন বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রের আত্মাকে ফিরিয়ে আনতে চাই, দেশকে বিভক্ত না করে ঐক্যবদ্ধ করতে চাই।’ ডেমোক্র্যাট, রিপাবলিকান সবাইকে শত্রুতা ভুলে সহযোগিতার সম্পর্ক তৈরির আহ্বান জানান বাইডেন। তিনি ঐক্য শব্দটির ওপর বারবার বিশেষ গুরুত্ব দেন। যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে যে ধরনের বিভেদ ও তিক্ততা তৈরি হয়েছে, সেদিকেই দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, এখন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষত সারিয়ে তোলার সময়। তিনি বলেন, ‘লাল রাজ্য বা নীল রাজ্য না দেখে শুধু যুক্তরাষ্ট্রকে দেখব। এই জাতির মেরুদণ্ড মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে পুনর্গঠন করব এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি পুরো বিশ্বের শ্রদ্ধা আবারও ফিরিয়ে আনব।’

বাইডেন বলেন, ‘এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ কথা বলেছে। তারা আমাদের সুস্পষ্ট বিজয় এনে দিয়েছে। এটা জনগণের বিজয়। আমি সবার আস্থা অর্জনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আমরা কী হতে চাই সেটা নিয়ে জোরালো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। আমরা যদি একে অপরকে সহযোগিতা না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারি, তাহলে সহযোগিতা করার সিদ্ধান্তও নিতে পারি।’ জো বাইডেন বলেন, ‘কোটি কোটি আমেরিকান আমার দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এটি আমার জীবদ্দশায় এক অনন্য সম্মান।’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমিও বেশ কয়েকবার হেরেছি, আমি আপনাদের হতাশা বুঝতে পারি।’  দেশটিতে পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গদের মৃত্যুকে ঘিরে সহিংস আন্দোলন, করোনা ভাইরাসে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যুর অভিজ্ঞতা না ভুলে নতুন সমাজ গঠনে সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে বলেন বাইডেন। কোভিড-১৯ মহামারি প্রতিরোধে নেতৃত্ব দিতে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠন করার ঘোষণা দেন তিনি।

ভাষণে বাইডেন তার ভোটার, প্রচারণা টিমের সদস্য, স্বেচ্ছাসেবী, নিজের পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের ধন্যবাদ জানান। দেশটির কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা যেভাবে আমার সঙ্গে ছিলেন, সেভাবে আমিও আপনাদের পাশেই থাকব।

জো বাইডেন মঞ্চে ওঠার আগে তার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত কমলা হ্যারিস ভাষণ দেন। তিনি বলেন, ‘এখনই কাজ শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছি। জো বাইডেন এবং আমি একসঙ্গে বৈশ্বিক মহামারি ও বর্ণবৈষম্যকে মোকাবিলা করব।’

বাইডেনের বিজয়ের পর এখনো হার মেনে নেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। বরং তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

নির্বাহী আদেশে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা

বাতিল করবেন

নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক খবরে বলা হয়েছে, ওভাল অফিসে বসার প্রথম দিনই নির্বাহী আদেশে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিছু সিদ্ধান্ত বাতিল করবেন জো বাইডেন। তিনি জানিয়েছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পরই জাতিসংঘে চিঠি দিয়ে জানাবেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার প্রচেষ্টায় আবারও যোগ দেবে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের পর এই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে আনেন।

করোনা মহামারি মোকাবিলায় তিনি ‘জাতীয় সরবরাহ শৃঙ্খলা কমান্ডার’ নিযোগ দেবেন। সরকারি কর্মীদের ইউনিয়ন করার অধিকার পুনর্বহাল করবেন। ট্রাম্প আমলে কয়েকটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা প্রত্যাহার করবেন। তিনি জানিয়েছেন, ওভাল অফিসে দুপুরের ভোজনের আগেই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণের কাজ শুরু করবেন। তার প্রশাসন ট্রাম্প আমলের ধ্বংসাত্মক নীতি পর্যায়ক্রমে বাতিল করবে। কিছু বিষয় তিনি নির্বাহী আদেশেই করতে পারবেন। আর কিছু ক্ষেত্রে কংগ্রেসের সম্মতি নিতে হবে।