ঢাকা সিটি কলেজ ও আইএসটির প্রাক্তন শিক্ষার্থী শান্তা ইয়াছমিন ৩৭তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। পুলিশ অফিসার আব্দুর রহমান খান ও সহজ-সরল মা রোকেয়া বেগমের একমাত্র কন্যা শান্তা ইয়াছমিনের কথা।
শান্তা ইয়াছমিনের জন্ম নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার ছায়মানারচর নামক এক অজপাড়া গাঁয়ে। শান্তা বলেন, ‘ছায়মানারচরে ভালো স্কুল না থাকাতে ৩ কি.মি. কাদাপানি হেঁটে খলিশাখালি বিদ্যালয়ে যেতাম। এটাকে কখনো কষ্ট বলে মনে করিনি।’ ২০০৪ সালে খলিশাখালি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে এসএসসিতে উত্তীর্ণ হন ও ২০০৬ সালে আমিনুর রহমান কলেজ থেকে একই বিভাগ নিয়ে এইচএসসিতে উত্তীর্ণ হন শান্তা ইয়াছমিন। বাবা-মা চেয়েছিলেন তাদের মেয়ে ডাক্তার হোক। কিন্তু এসএসসি ও এইচএসসিতে কাঙ্ক্ষিত ফল না করাতে মেডিক্যালে ভর্তির আর সুযোগ হয়ে ওঠে না। তখন বাবা সাহস জোগাতেন, ‘কী হয়েছে মেডিক্যালে হয়নি, তুই বড় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হবি। নিজেরও ইচ্ছা ছিল এরকম কিছু একটা হবো, তাই পরবর্তীতে ঢাকা সিটি কলেজে সিএসইতে (কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং) ভর্তি হই। সেখান থেকে ৩.২৫ পেয়ে বিএসসি ইন সিএসইতে উত্তীর্ণ হই।’
শান্তা বলেন, ‘যেকোনো পড়াই আমি প্রথমে দেখে দেখে লিখতাম, তখন এমনিতেই মুখস্থ হয়ে যেত। ফলে যেকোনো বিষয়ের ওপর লিখতে দিলে সাধারণ ভাষায় সুন্দর করে উপস্থাপন করতে পারতাম। আর এটাই আমার বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় সাহায্য করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোনো বিষয় ১০ বার পড়ার চেয়ে ১ বার লিখে বেশি মনে রাখা যায়। ছোটবেলা থেকেই জানার প্রবল আগ্রহ ছিল। শুধু যে একাডেমি বিষয়ই পড়তে হবে তা না। যেখানে যা পেতাম তাই জানার চেষ্টা করতাম। এগুলো বিসিএস ভাইভাতে কাজে দিয়েছিল।’
‘কখনো ভাবিনি বিসিএস দেব। সিএসইর ছাত্রী হিসেবে ওই দিকেই ক্যারিয়ার নেওয়ার ঝোঁক ছিল। বাবা একদিন আমায় হঠাত্ করে বললেন, ‘তুই বিসিএস পরীক্ষা দিবি। তোকে পুলিশ অফিসার হতে হবে। আর আমার দৃঢ় বিশ্বাস তুই পারবি।’ বাবার কথামতো বিএসসি শেষ করেই এমএসসিতে (ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি) ভর্তি হই এবং ৩.৫৯ ফলাফল নিয়ে উত্তীর্ণ হই।’ তিনি দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চান, পাশে থাকতে চান অসহায়ের। আর সবসময়ই হাসিখুশি থাকতে চান শান্তা ইয়াছমিন।
