জাতীয় পরিচয়পত্রের সংশোধন নিয়ে ভোগান্তি

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২০, ২১:৫৭

জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ড একজন নাগরিকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু একজন ব্যক্তির প্রয়োজনীয় সব তথ্য বহন করে তার জাতীয় পরিচয়পত্র, সেহেতু এর সমস্ত তথ্য শতভাগ যথাযথ হওয়া বাঞ্ছনীয়। জাতীয় পরিচয়পত্রে কোনো তথ্য ভুল হলে তা সংশোধন করা যে কতটা জটিল এবং সময়সাপেক্ষ ব্যাপার তা কেবল ভুক্তভুগীই জানেন। ফরম পূরণ করা থেকে শুরু করে আইডি কার্ড হাতে পাওয়া পর্যন্ত কখনো কখনো ছয় মাস থেকে এক বছরও লেগে যায়! সংশোধনী ফরম পূরণ করে তাতে জন্ম নিবন্ধনের কপি, মাধ্যমিক সার্টিফিকেটের কপি ও ছবি (সত্যায়িত) সংযুক্তি অতঃপর ব্যাংক ড্রাফটের পর শুরু হয় আসল খেলা। নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পরও একাধিকবার নির্বাচন অফিসে ঘুরেও মেলে না কাঙ্ক্ষিত বস্তু। সার্ভার সমস্যা, ওয়াইফাই সমস্যা, হেড অফিসে কাজের চাপ এমন কত কিছুই না শুনতে হয়। এরপর সংশোধিত হওয়ার পর কার্ডটি হস্তান্তরে গরিমসি করা এবং অর্থ দাবির ঘটনাও ঘটে অনেক সময়। একটি অভিজ্ঞতার কথা বলি। সাজিদ (ছদ্মনাম)-এর জন্মতারিখ ৩. ৪. ১৯৯৬। কিন্তু সে তার জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে পাওয়ার পর লক্ষ করে সেখানে উল্লেখ্য আছে ৩০. ৪. ১৯৯৬। শুধু ৩০-কে ৩ করতে হবে। এই কাজটি করার জন্য নির্বাচন অফিস সময় নিয়েছে পাক্কা নয় মাস। এর পর আইডি কার্ড হাতে দেওয়ার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মচারী মিষ্টি খাওয়ার জন্য দাবি করেন ২০০ টাকা! এভাবে জাতীয় পরিচয়পত্রের সংশোধন নিয়ে নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে জনসাধারণ। কাজেই বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মো. সোহেল দেওয়ান

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া