সগিরা মোর্শেদকে গুলি করে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত আসামি মারুফ রেজা (৫৯) শিশু আদালতে বিচার চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি হবে। গতকাল সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় আবেদনটি শুনানির জন্য ছিল।
এদিকে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি আবারও পিছিয়েছে। আসামির আইনজীবীর অসুস্থতা এবং মারুফ রেজার বিচার শিশু আদালতে করার আবেদন উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকায় আগামী ২৬ নভেম্বর নতুন দিন ধার্য রেখেছে আদালত। আসামি পক্ষের সময় আবেদন মঞ্জুর করে গতকাল এই আদেশ দেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছান হলো বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর পিপি আব্দুল্লাহ আবু, অতিরিক্ত পিপি তাপস কুমার পাল, বাদি পক্ষে জ্যের্তিময় বড়ুয়া ও আসামি পক্ষে দেওয়ান আব্দুস নাসের উপস্থিত ছিলেন।
সগিরা মোর্শেদের স্বামী আব্দুস সালাম সাংবাদিকদের বলেন, এতকাল ধরে একের পর এক তদন্ত পেছাল। আজ আবার উচ্চ আদালতের কথা বলে সময়ক্ষেপণ করে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট করা হচ্ছে। আমরা নিয়মিত বিচার থেকে পিছিয়ে যাচ্ছি।
প্রসঙ্গত, ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই সগিরা মোর্শেদ ভিকারুননিসা নূন স্কুল থেকে মেয়েকে আনতে গিয়ে খুন হন। পরে মিন্টু নামে এক আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। দীর্ঘদিন হাইকোর্টের আদেশে মামলার বিচার কাজ বন্ধ ছিল। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ বছর পর ঐ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় হাইকোর্ট। নতুন তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। ঐ তদন্তে সগিরা মোর্শেদের ভাসুর ডা. হাসান আলী চৌধুরী (৭০), তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহিন (৬৪), শাহিনের ভাই আনাছ মাহমুদ রেজওয়ান (৫৯) ও মারুফ রেজাকে (৫৯) অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পিবিআই। এতে দেখা যায়, স্বজনদের পরিকল্পনাতেই খুনের শিকার হন ঐ নারী। আর সগিরা মোর্শেদকে গুলি করে খুন করেন এই মারুফ রেজা। গতকাল অভিযোগ গঠনের ধার্য তারিখে আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। গত ৭ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ শিশু আদালতে বিচার চেয়ে আসামি মারুফ রেজার করা আবেদন খারিজ করে দেন। ঐ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন মামলা করেছেন মারুফ রেজা। আসামির আইনজীবী বলেছেন, ঘটনার সময় মারুফের বয়স ১৮ বছরের কম (তত্কালীন আইন অনুযায়ী শিশু) ছিল। ফলে তার বিচার শিশু আদালতে করার জন্য আবেদন করা হয়েছে।
