সিলেটে পুলিশ হেফাজতে রায়হান হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত বন্দর বাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ বহিষ্কৃত এসআই আকবর হোসেন ভুঁইয়া ধরা পড়েছেন। রবিবার রাতে কানাইঘাট এলাকাসংলগ্ন ভারতের মেঘালয় এলাকার শিলচরের ডনা বস্তি এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয় খাসিয়ারা তাকে আটক করেন। রাতে তাকে ডনা ক্যাম্পে রাখা হয়। পরদিন দুপুরে খাসিয়ারা রহিম নামের এক বাংলাদেশিসহ আকবরকে সীমান্তের এপারে স্থানীয় লোকজনদের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে খবর পেয়ে কানাইঘাট থানা ও জেলা পুলিশের একটি টিম তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। ১৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে আকবর গ্রেফতারের খবর পেয়ে দুপুরে কানাইঘাটে বিপুলসংখ্যক জনতার ভিড় জমে। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তাকে নিয়ে কড়া নিরাপত্তায় জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয় পুলিশ। সন্ধ্যায় পুলিশ সুপার অফিসের সামনে উত্সুক জনতার ঢল নামে। সেখানে আকবরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে জনতা স্ল্লোগান দিতে থাকে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে আকবরকে নিয়ে পুলিশের গাড়ি পুলিশ সুপারের অফিসের সামনে আসামাত্রই একদল পুলিশ আকবরকে কর্ডন করে অফিসের ভেতর নিয়ে যায়। এ সময় ফটো সাংবাদিকদেরও কাছে ভিড়তে দেওয়া হয়নি। তখন আকবর তার গায়ের সবুজ রংয়ের চাদর দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলেন। পরে পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন জনতাকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আকবরের বিচার আইনানুগভাবেই হবে। আপনারা শান্ত থাকুন ধৈর্য ধরুন।’ রাত ৮টার দিকে আকবরকে পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে পিবিআই কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
সিনিয়র অফিসারের পরামর্শে পালিয়েছিলেন!
যুবক রায়হানকে আমি একা মারিনি, পাঁচ-ছয় জন মিলে মার দেওয়ার পর সে মরে গেছে। এরপর সিনিয়র এক অফিসারের পরামর্শে তিনি পালিয়ে যান। সেই অফিসার আকবরকে বলেছিলেন, ‘সাসপেন্ড করেছে। গ্রেফতার করতে পারে। তাই তুমি আপাতত চলে যাও। দুই মাস পরে সব ঠিক হয়ে যাবে। তখন আইসো।’ ধরা পড়ার পর আকবর খাসিয়াদের কাছে এমন স্বীকারোক্তি দেন বলে স্থানীয় একটি সূত্রে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, এসআই আকবর আত্মগোপনে থাকাবস্থায় খাসিয়াদের বেশভূষা ধারণ করেছিলেন। তারপরও শেষ রক্ষা হয়নি। আটককালে দেখা যায় তার গলায় পুতির মালা, মুখে দাড়ি। একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, একটি পাহাড়ি ছড়ায় পাথরের ওপর আকবর হোসেনকে বসিয়ে রেখে হাত-পা বাঁধেন কয়েক জন যুবক। আর আকবর হাতজোড় করে কাঁদছিলেন। তার হাত-পা না বাঁধার জন্য অনুরোধ করছিলেন। এ সময় আকবর বলছিলেন, ‘আল্লাহর কসম ভাই, আমি ভাগব না, খোদার কসম ভাই, ভাগব না। আমাকে রশি দিয়ে বাঁধবেন না।’ তখন খাসিয়ারা তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘১০ হাজার টাকার জন্য কেন এক জনকে মেরে ফেললে?’ জবাবে আকবর বলেন, ‘আমি ইচ্ছা করে একা মারিনি। তারে মেরেছে পাঁছ-ছয় জন। পাবলিক মেরেছে তাই সে মরে গেছে। আমি বরং তাকে হাসপাতালে নিয়েছি। কিন্তু ওখানে সে মারা যায়।’ আকবর আরো বলেন, ‘সে (রায়হান) টাকা ছিনতাই করেছিল।’
