মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুরের সারাসিন গ্রামের দিনমজুর মো. হাবিবুর রহমান। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তিনি আজ পঙ্গুত্বের শিকার। অতিকষ্টে সংগ্রহ করেছেন একটি শারীরিক প্রতিবন্ধী কার্ড।
কিন্তু কার্ডধারী হয়েও তার ভাগ্যে জোটেনি প্রতিবন্ধী ভাতা। বৈবাহিক সূত্রে পাওয়া এক টুকরো ভিটায় তার বাস। অর্ধাহারে-অনাহারে কঙ্কালসার দেহ নিয়ে বেঁচে আছেন তিনি।
হাবিবুর রহমান জানান, স্ত্রী আর এক ছেলে জাকির হোসেনকে নিয়ে ভালোই কাটছিল তার সংসার। মাঠে চাষ যোগ্য নিজের কোন জমি না থাকলেও কোন চিন্তা ছিল না তার। কারণ তখন তার দেহে ছিল যথেষ্ট শক্তি আর মনোবল। ছেলেকে শিক্ষিত করার স্বপ্ন হৃদয়ে ধারণ করে তিনি অন্যের জমিতে কাজ করেছেন হাসিমুখে। ছেলে শিক্ষিত হয়ে ভাল চাকরি করবে, ঘুচে যাবে সকল দৈন্যতা। এ আশায় বুক বেঁধে সর্ব শক্তি দিয়ে তিনি মাঠের কাজ করতেন।
মাঠে কাজ করার একপর্যায়ে হাবিবুর রহমানের ডান পায়ে এক বস্তু ঢুকে যায়। ধীরে ধীরে অবনতির দিকে যেতে থাকে তার পা। সর্বশেষ অপারেশনের মাধ্যমে কেটে ফেলা হয় ডান পা। বগলে থাকা দুটি লাঠি আর অভাব অনটন নিত্যসঙ্গী হয়ে যায় হাবিবুর রহমানের জীবনে। সংসারের হাল ধরতে হাবিবুরের স্ত্রী ১১০ টাকা হাজিরায় শ্রমিকের কাজ নেয় পাশের গ্রামের জুটমিলে। কিন্তু সে জুটমিলও এক সময় বন্ধ হয়ে যায়। সেই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় সংসারের চাকা। উপায়ন্তর না পেয়ে তিনি তার ছেলেকে স্কুল ছাড়িয়ে পাঠান জুতার কারখানায়। ছেলের সামান্য বেতনের টাকায় অর্ধাহারে-অনাহারে চলছে তার সংসার।
অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে হাবিবুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, এই কার্ড ঘরে রেখে কি লাভ? ৫ মাস আগে এই কার্ড পেয়েছি। এই কার্ড তো আমাকে খেতে দেয় না। আমার স্বপ্নের জাল ছিঁড়ে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। মৃদুস্বরে কথাগুলো বলার সময় পানি গড়িয়ে পড়ছিল প্রতিবন্ধী হাবিবুর রহমানের দুচোখ থেকে।
আরো পড়ুন: বাবুর্চি নেই ট্রাম্পের, রেস্টুরেন্টের খাবারে অতিথি আপ্যায়ন
মহাদেবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল আমীন ডিউকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রতিবন্ধীদের তালিকা আমাদের কাছে রয়েছে। হাবিবুর ৫ মাস আগে কার্ড পেয়ে ভাতা পায়নি। এরকমও অনেকে আছে ১০ বছর আগে কার্ড পেয়েছে এখনোও ভাতা পায়নি। আমার উপজেলায় এখনোও ২ হাজার কার্ডধারী প্রতিবন্ধী আছে। তার মধ্যে ভাতা পায় মাত্র ১০০ জন। সরকার যদি কার্ড হিসাব করে ভাতা দেয় তাহলে সকল কার্ডধারী প্রতিবন্ধীরা ভাতা পাবে।
জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক জোয়ারদার মোহাম্মদ মহীউদ্দিন জানান, আমার জেলায় যতজন প্রতিবন্ধী কার্ডধারী আছে তার অর্ধেক বরাদ্দ পাই সরকারের কাছ থেকে। সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে শতভাগ কার্ডধারীকে ভাতা প্রদান করা।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
