১৯৫ কোটি টাকা পাচার মামলা

গ্রেফতার দেখানো হলো কারাগারে থাকা সম্রাটকে

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২০, ২২:০২

ক্যাসিনোকাণ্ডে বহুল আলোচিত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে মানিলন্ডারিং মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনসারী তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এর আগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। আবেদনের পর আদালত তাকে কারাগার থেকে আদালতে উপস্থিত করার নির্দেশ দেন। গতকাল সম্রাটের উপস্থিতিতে বিচারক শুনানি শেষে তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর  রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। কাকরাইলের বাসায় অবস্থান করে অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত ১৯৫ কোটি টাকা সহযোগী এনামুল হক আরমানের সহায়তায়  সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় পাচার করায় মামলাটি দায়ের করা হয়।

মানিলন্ডারিং আইনে সিআইডির দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট রাজধানীর মতিঝিল, ফকিরাপুল, পল্টন ও কাকরাইল এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে অবৈধ অর্থ উপার্জন করেন। তার উপার্জিত অবৈধ অর্থের মধ্যে ১৯৫ কোটি টাকা তিনি তার সহযোগী আরমানের সহায়তায় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় পাচার করেছেন। সম্রাটের বিদেশ ভ্রমণের পর্যালোচনামূলক তথ্যও সিআইডি মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ৯ আগস্ট পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় তিনবার, দুবাইয়ে দুইবার এবং হংকংয়ে একবার যাতায়াত করেন। তার অপরাধকর্মের সহযোগী আরমান ২০১১ সালের ১২ ডিসেম্বর  থেকে ২০১৯ সালের ১৮ মে পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে ২৫ বার যাতায়াত করেন।

এদিকে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্থ উপার্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলা তদন্তাধীন। গত বছরের ১২ নভেম্বর দুদকের করা মামলায় সম্রাটের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আনা হয়।

ঐ মামলায় গত ১৮ আগস্ট আদালতে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশ ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন।