এমপি পাপুলসহ চার জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২০, ২২:০২

প্রায় ১৪৮ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনসহ অর্থ পাচার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এমপি কাজী সহিদ ইসলাম পাপুল ও তার স্ত্রী এমপি সেলিনা ইসলামসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুমোদিত মামলার এজাহারে পাপুল, তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও পাপুলের শ্যালিকা জেসমিন প্রধানকে আসামি করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে অনুসন্ধান কর্মকর্তার প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। শিগিগরই দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন দুদকের পরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য।

দুদকের অনুসন্ধান থেকে জানা যায়, তিনটি ব্যাংকে পাপুলের শ্যালিকা জেসমিন প্রধানের নামে পাঁচটি হিসাবে জমা হয় মোট ১৪৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব থেকে পাঁচটি হিসাবে ঐ পরিমাণ টাকা জমা করা হয়। পরে ১৪৮ কোটি ২১ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত্ করা হয়। অবৈধ লেনদেন পাওয়ায় পাপুলের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে কুয়েতে মানব পাচার করে শত কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জনের প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পেয়েছে কমিশন। যা তদন্ত সাপেক্ষে মামলার এজাহারে সংযুক্ত হতে পারে।

দুদক সূত্র জানায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কমিশন পাপুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ পাচার ও শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। ১৭ জুন দুদক পাপুলের স্ত্রী, মেয়ে ও শ্যালিকার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করে পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) চিঠি দেওয়া হয়। গত ২২ জুন পাপুল, স্ত্রী  সেলিনা, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিনের ব্যক্তিগত ও ব্যাবসায়িক দেশি-বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা সব ব্যাংক হিসাব স্থগিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দেয় দুদক।

গত ২২ জুলাই জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, এমপি কাজী সহিদ ইসলাম পাপুল ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। তার সম্পদের ব্যাপারে দুদক জানতে চেয়েছিল, আমরা দুদকে লিখিত বক্তব্য দিয়েছি। আমাদের কোনো গোপন সম্পদ নেই।

উল্লেখ্য, গত ৬ জুন রাতে কুয়েতের মুশরেফ আবাসিক এলাকা থেকে দেশটির অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পাপুলকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে দেশটিতে মানব পাচার ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। গ্রেফতারের পর পাপুলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় কুয়েতের আদালত। তিনি বর্তমানে দেশটির কারাগারে আছেন। অন্যদিকে পাপুলের কুয়েতি প্রতিষ্ঠান মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানির অ্যাকাউন্টে ৫০ লাখ কুয়েতি দিনার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৩৭ কোটি ৮৮ লাখ ৮৩ টাকা) জব্দ করেছে দেশটির সরকার। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মানব পাচার, অর্থ পাচার ও ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগ এনেছে কুয়েতি প্রসিকিউশন।