দায়রা আদালতেই বিচার হবে মারুফ রেজার

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২০, ০০:২৩

অর্থনীতিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের তত্কালীন গবেষক সগিরা মোর্শেদকে গুলি করে হত্যা করেছিলেন মারুফ রেজা। বর্তমানে তার বয়স ৪৯ বছর। পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রে উল্লেখিত বয়স অনুযায়ী নিজেকে শিশু দাবি করে এই হত্যা মামলায় নিজের বিচার শিশু আদালতে করতে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর দাখিলকৃত নথি অনুযায়ী অপরাধ সংঘটনের সময় তার বয়স ছিল ১৮ বছরের ওপরে। উভয় পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি নিয়ে আসামি মারুফ রেজার আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। এর ফলে নিম্ন আদালতে অর্থাত্ দায়রা আদালতে এই মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হতে আর কোনো আইনগত বাধা থাকল না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

শিশু আদালতে বিচার চেয়ে আসামি মারুফ রেজার করা আবেদন গত ৭ অক্টোবর খারিজ করে দেয় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। ঐ খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি। আবেদনের পক্ষে আইনজীবী দেওয়ান আব্দুর নাসের ও রাষ্ট্রপক্ষে ডিএজি মো. মনিরুল ইসলাম শুনানি করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেয়।

প্রসঙ্গত ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই সগিরা মোর্শেদ ভিকারুননিসা নূন স্কুল থেকে মেয়েকে আনতে গিয়ে খুন হন। পরে মিন্টু নামে এক আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। দীর্ঘদিন হাইকোর্টের আদেশে মামলার বিচারকাজ বন্ধ ছিল। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ বছর পর ঐ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় হাইকোর্ট। নতুন তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। ঐ তদন্তে সগিরা মোর্শেদের ভাসুর ডা. হাসান আলী চৌধুরী (৭০), তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহিন (৬৪), শাহিনের ভাই আনাছ মাহমুদ রেজওয়ান (৫৯) ও মারুফ রেজাকে (৫৯) অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পিবিআই। এতে দেখা যায়, স্বজনদের পরিকল্পনাতেই খুনের শিকার হন ঐ নারী। আর সগিরা মোর্শেদকে গুলি করে খুন করেন এই মারুফ রেজা। ইতিমধ্যে আসামিপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন পিছিয়েছে চতুর্থবারের মতো। বারবার অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছানোয় ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিহত সগিরা মোর্শেদের স্বামী আব্দুস সালাম।