দ্য থ্রিল অব রিয়েল বিজেনস

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইউনিলিভারের বিজমাইস্ট্রোস জয়ী নুসরাত ও শানিলের সফলতা

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২০, ১৫:৩৭

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত খন্দকার কোথায় কী শেখার বা অধ্যয়নের সুযোগ আছে সেই সম্পর্কে সর্বদাই চোখ-কান খোলা রাখতেন। ব্যস, অচিরেই একদিন সুযোগ চলে এলো। নুসরাত খন্দকার তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিসংক্রান্ত ওয়েবসাইটে একটি ছোট্ট ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁর দল নিয়ে উৎসাহের সঙ্গে ইউনিলিভার বাংলাদেশের ফ্ল্যাগশিপ বিজনেস কমপিটিশন বা ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা 'বিজমাইস্ট্রোস ' এ অংশ নেন। শেষ বর্ষের আন্ডারগ্র্যাজুয়েটদের জন্য আয়োজন করা এই প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের 'দ্য থ্রিল অব রিয়েল বিজেনস' দেয়ার অঙ্গীকার করে।

তার ভাষ্যমতে, 'যেকোনো প্রতিযোগিতাই কোনো কোম্পানির উন্নয়ন সম্পর্কে জানার সুযোগ এনে দেয়, যা ব্যবসা শিক্ষার শিক্ষার্থী বা অন্যদের জন্য বেশ আকর্ষণীয় ।' নুসরাত খন্দকার তাঁর দলসহ জীবন বদলে দেওয়ার মতো দারুণ এক সুযোগ পেয়ে গেলেন। এই অভিযাত্রায় বাংলাদেশ থেকে তাঁরা ফিউচার লিডারস লীগ (এফএলএল) নামের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেন। লন্ডনে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের সেরা ৩০টি দল অংশ নেয়।
নুসরাত খন্দকার ও তাঁর দল এদেশের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে লন্ডনে অনুষ্ঠিত ইউনিলিভার ফিউচার লিডারস লীগ (এফএলএল) প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার দুর্দান্ত সুযোগ পান। ইউনিলিভার আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় নুসরাত ও তাঁর দল বাংলাদেশকে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে নতুন এক পরিচিতি এনে দেন। প্রতিযোগিতায় তাঁরা প্রথম রানার আপ হন এবং বাংলাদেশের প্রথম দল হিসেবে ফিউচার লিডারস লীগ (এফএলএল) প্রতিযোগিতায় শীর্ষ তিনে জায়গা করে করে নিলেন।

নুসরাত খন্দকার ও তাঁর দল বাংলাদেশের জন্য যেন একটি মানদণ্ড ঠিক করে দিয়ে গলেনে, কারণ তাঁরা প্রথম রানার আপ হওয়ার পর থেকেই ইউনিলিভার বাংলাদেশ আয়োজিত ' বিজমাইস্ট্রোস ' প্রতিযোগিতার বিজয়ী দল বৈশ্বিক পর্যায়ের ফিউচার লিডারস লীগ (এফএলএল) প্রতিযোগিতায় প্রতিবছর ফাইনাল উঠেছে। সুতরাং, নুসরাত ও তাঁর দলকে ধন্যবাদ দেওয়াটাই সমীচীন, যারা পরবর্তী অংশগ্রহণকারীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে আছেন এবং বিশ্ব পরিমণ্ডলে সফলতার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এর ফলেই তাঁদের পরবর্তী দলগুলো ভীষণ আস্থার সাথেই বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের সাথে ফিউচার লিডারস লীগরে (এফএলএল) মতো মর্যাদাশীল বৈশ্বিক মঞ্চে অবতীর্ণ হয়ে জিতে আসেন। তাই যখন ফিউচার লিডারস লীগ (এফএলএল) প্রতিযোগিতা আসে তখনই বাংলাদেশের তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের ইউনিলিভার বিজমাইস্ট্রোস চ্যাম্পিয়নদের বৈশ্বিক মঞ্চেও অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠার দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়।

বর্তমানে নুসরারত খন্দকার ইউনিলিভার বাংলাদেশের ভিম ব্র্যান্ডের ব্যান্ড ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, ''নিজেকে আবিষ্কার করার চেয়ে বেশি মুগ্ধতার আর কিছু নেই। কারণ এর মাধ্যমেই একের পর এক সফলতা আসে, ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়া যায় এবং সবশেষে সেরা হওয়ার স্বীকৃতিস্বরুপ শিরোপা অর্জন করা সম্ভব। জয়ের ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে কে না চায় জিততে?''

নুসরাত তাঁর প্রকল্পের মেন্টরকে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য গভীরভাবে স্মরণ করেন। ফিউচার লিডারস লীগ (এফএলএল) প্রতিযোগিতায় নুসরাতের দলকে সেমিফাইনাল পর্বে একজন সিনিয়র ম্যানেজারের সাথে ২০ মিনিটের একটি সেশন দেওয়া হয়। সেই সিনিয়র ম্যানেজার নুসরাতের দলের 'হাউ ইম্পরট্যান্ট ইজ টু এস্টাবলিশ এন আইডিয়া' বা 'কোনো একটি আইডিয়া বা ধারণা প্রতিষ্ঠিত করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ' এবং 'শার্পেনিং দ্য ইনসাইটস' বিষয়ে মেন্টরের দায়িত্ব পালন করেন। এই প্রসঙ্গে নুসরাত বলেন, ''সিনিয়র ম্যানেজারের কাছ থেকে আমরা যে জ্ঞান অর্জন করেছিলাম তা আমাদের নিজেদের আইডিয়া প্রতিষ্ঠায় খুবই সহায়ক হয়েছে। তিনি শিখিয়েছিলেন প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে অত্যন্ত সুদক্ষ বিচারকমণ্ডলীর সামনে কোনো কিছু বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে হলে লজিক অ্যান্ড ম্যাজিক দুটোই প্রয়োজন।”

নুসরাত ও তাঁর দল ২০১৪ সালে ইউনিলিভারের বিজমাইস্ট্রোস জেতেন। তাঁরা ইউনিলিভারের জন্য একটি ’মার্কেট ডেভেলপমেন্ট সলিউশন মডেল’  তুলে ধরেন তদানন্তিন ফেয়ার অ্যান্ড লাভ্লি যেটি বর্তমানে গ্লো অ্যান্ড লাভলি নামে পরিচিত । নুসরাত খন্দকার বলেন, ''আমাদেরকে 'মুখের সাবান অব বাংলাদেশ'-এর মতো একটি ফেসওয়াশ বিপণনের বিষয়ে জোর দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এক্ষেত্রে ভোক্তাদের উপলব্ধি আকর্ষণ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী আমরা এমন একটি ধারণা উপস্থাপন করেছি যেখানে বলেছি, একই বডি সোপ শরীরের মতো মুখমণ্ডলেও ব্যবহার করা যেমন খুবি সূক্ষ্ম একটি লজ্জার ব্যাপার, একই সাথে এতে মুখের ক্ষতি হতে পারে। বদৌলতে আমরা প্রতিযোগিতায় জিতে যাই।''

নুসরাত খন্দকার তাঁর বক্তব্যে বলেন, “ইউনিলিভারের বিজমাইস্ট্রোস জেতার জন্য তিনটি দক্ষতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ - প্রথমত, আপনার কেস স্টাডিতে কনজ্যুমার ইনসাইটস তুলে আনতে হলে আপনার মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সাথে যোগাযোগে ভালো দক্ষতা বা খোলাখুলি কথা বলার মানসিকতা থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, দলগতভাবে কাজ করার পাশাপাশি ভাগাভাগি করে কাজ সম্পন্ন করা কারণ তা না হলে আপনি সাবলীলভাবে বিশাল এই কাজ শেষ করতে পারবেন না। সবশেষে, তিন জন আলাদা মানুষ আলাদা তিনটি বিষয়ে কাজ করবেন এবং সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া কাজটাকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। একটি দলে যদি বিচিত্র ধরনের মানুষ থাকে তাহলে তা সঠিক মানুষের মাধ্যমে আপনি সঠিক কাজ পাবেন। এতে দল বেশ উপকৃত হবে।''

এই ধরনের প্রক্রিয়ায় দ্বিমত থাকলে সেটি সঠিক সমাধান পেতে সহায়ক হয়। সবচেয়ে ভালো সমাধান পেতে গঠনমূলক যুক্তি ও মতের পার্থক্য থাকাও জরুরি। সেই সঙ্গে, সমাধানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি সহজ উপস্থাপনার মাধ্যমে শ্রোতা-ভোক্তাদের আকৃষ্ট করতে হবে। সব মিলিয়ে একটি প্যাকেজের আওতায় সু-সমন্বিত উপায়ে এক দল আরেক দলের সাথে সঙ্গতি ও যোগাযোগ রেখে কাজ করে যাবে।''

শিক্ষার্থীদের জন্য নুসরাতের চূড়ান্ত বক্তব্য হলো, তাঁদের চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করার মতো প্রস্তুত থাকতে হবে, কীভাবে সামনে এগোতে হবে তা জানতে হবে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সংযোগ বাড়াতে হবে এবং তাঁদের বিজমাইস্ট্রোস অভিযাত্রার সময়টা উপভোগ করতে হবে।''

২০১১ সালে দ্বিতীয় বিজমাইস্ট্রোস জিতেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইন্সটিটিউটের (আইবিএ) একটি দল। এই দলেরই একজন সদস্য শানিল সাজাব। আইবিএর এই সাবেক শিক্ষার্থী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জেনিথে কাজ করেন। বিজয়ী ওই দলটি ক্যাম্পাসে রোড শো চলার সময় বিজমাইস্ট্রোস আয়োজন সম্পর্কে জানতে পারে। শানিল সাজাব নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে এই আয়োজনকে দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য অভিনব উদ্যোগ বলে আখ্যায়িত করেন।

তিনি বর্তমানে লুমেন টেকনোলজির ইস্ট রিজিওন অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এই কোম্পানির ২০০ কোটি ডলারের বাজার রয়েছে, যার ব্যবস্থাপনায় রয়েছে তাঁর নেতৃত্বাধীন দল। তাঁর কোম্পানির কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া থেকে ফ্লোরিডার দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত। শানিল ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং টেলিকম শিল্পে যোগ দিয়ে প্রবাসের কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর তিনি চাকরি বদলে নতুন সেক্টরে যান।

শানিল বাংলাদেশে থাকার সময়ে শিক্ষার্থীদের জন্য জাতীয়ভাবে স্বীকৃত প্রতিযোগিতা করার মতো প্ল্যাটফর্ম ছিল সীমিত। এমন পরিস্থিতিতে ইউনিলিভারের চালু করা বিজমাইস্ট্রোস প্রতিযোগিতা দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এটরি বিশাল কর্মযজ্ঞ ও মাহাত্ম্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতার দারুণ এক আবহ তৈরি করে। একই সাথে এটি প্রতিযোগিতা আয়োজনের নতুন বেঞ্চমার্ক স্থাপন করে। শানিল সাজাব বলেন, প্রতিযোগিতার প্রতিটি মাইলস্টোনই চ্যালেঞ্জের, যেখানে সুচিন্তিত উপায়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে নিজেকে প্রমাণ করতে হয়।''

শানিল সাজাবদের বিজনেস কেস স্টাডি ছিল ভোক্তাদের জন্য বাজারে নর স্যুপ নামে নতুন পণ্য নিয়ে আসা নিয়ে। এ সম্পর্কে শানিল বলেন, ''যেহেতু নর স্যুপ হচ্ছে একটি পুষ্টিকর স্ন্যাক সেহেতু এই পণ্যের ব্যাপারে ভোক্তাদের ব্যাপকভাবে আকর্ষণের উপায় বের করা বিষয়ে আমাদের গভীরভাবে চিন্তা করতে হয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা ''নরিশিং মিনিটস'' নামে ক্যাম্পেইনের নতুন কৌশল উপস্থাপন করি, যেখানে এই ব্র্যান্ড সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টি প্রাধান্য পায়। ভোক্তাদের মনোযোগ আকর্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন মিডিয়া চ্যানেলে সৃজনশীল বিজ্ঞাপন প্রচারের পাশাপাশি বিক্ষিপ্তভাবে ছোট ছোট ক্যাম্পেইনও চালানো হয়। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতেও ক্যাম্পেইন চালানোর কৌশল নেওয়া হয়। তবে ওই কার্যক্রম ২০১১ সালেই সীমিত ছিল।''

শানিল সাজাবের মতে, '' বিজমাইস্ট্রোস জিততে হলে নেতৃত্বগুণ, দলগতভাবে কাজ করা ও উদ্ভাবনের মানসিকতায় সু-সমন্বয় থাকতে হবে। সেখানে আপনাকে এমন এক চ্যালেঞ্জের পরিবেশে ঠেলে দেওয়া হবে যা আপনি আগে কখনো দেখেননি বা যেই অভিজ্ঞতা আগে আপনার ছিল না। সেখানে সমস্যা বিশ্লেষণ ও সমাধানে আপনাকে ভীষণ চিন্তাশীল ও পারঙ্গম হতে হবে। বিদ্যমান সমস্যার সমাধানে আপনার দলকে সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে আসতে হবে। এ ধরনের রূপকল্প না থাকলে এবং দলগতভাবে কাজ না করলে আপনার দল এই প্রতিযোগিতায় জিততে পারবে না।'' বিজমায়েস্ত্রোজ জেতার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে শানিল জানান, তিনি দলগতভাবে কাজ করায় বিশ্বাসী। তিনি বলেন, '' বিজমাইস্ট্রোস থেকে পাওয়া সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো,  'নেতৃত্ব', বা 'প্রখর চিন্তাশীলতা' ও 'সিদ্ধান্ত গ্রহণ'।''

শিক্ষার্থীরা সাধারণত তাদের শিক্ষাজীবনের বেশিরভাগ সময়ই বই পড়া, লাইব্রেরি ও লেকচার রুমে অধ্যয়ন, বিভিন্ন থিওরি ও ফর্মুলা অনুধাবন এবং হাইপোথেটিক্যাল কেস স্টাডি নিয়েই ব্যয় করে থাকে। যে কারণে করপোরেট জগত তাদের কাছে অত্যন্ত অভিনব ও অপরিচিত থেকে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ইউনিলিভার বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য বিজমাইস্ট্রোস প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের সামনে করপোরেট জগত কীভাবে কাজ করে সেটি সম্পর্কে জানার সুবর্ণ সুযোগ এসে যায়। এভাবেই প্রতিযোগিতাটি শিক্ষার্থীদের মুগ্ধ করে তোলে এবং নিজেদের প্রস্তুত করার মাধ্যমে তাঁদের ভবিষ্যতে করপোরেট জগতে প্রবেশের অভিযাত্রা শুরু হয়।

শানিল আরো বলেন, ''এই প্রতিযোগিতার ডিজাইন এমনভাবে করা হয়েছে যা আপনাকে আপনার স্বচ্ছন্দ বোধের জায়গা থেকে বাইরে ঠেলে দেবে। আপনি প্রতিযোগিতায় যতক্ষণ অবতীর্ণ থাকবেন ততক্ষণ আপনাকে বহুবার পরীক্ষা দিয়ে যেতে হবে। ফলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকাবস্থায় আপনার সামনে বাধার মুখে কীভাবে কাজ করতে ও সিদ্ধান্ত নিতে হয় তা শেখার সুযোগ আসবে।''

তিনি বিশ্বাস করেন, আপনি যদি দ্রুত এগোতে চান তাহলে একলা চলুন। আর আপনি যদি অনেক দূর যেতে চান তবে আপনাকে একসাথে মানে দলবদ্ধভাবে চলতে হবে! শানিল জানান, গোটা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি অত্যন্ত মেধাবী, চৌকস ও সহায়তাকারী একদল বন্ধুর সাহচর্য পেয়েছিলেন। তিনি বলেন, ''এটাই হলো টিম কেমিস্ট্রি। আমরা সবাই পরস্পরের সাথে নিজেদের সব অনুরাগ-অনুভূতি, আশা-আকাঙ্ক্ষাগুলোর কথা শেয়ার করতাম। এভাবেই একে অন্যের ওপর বিশ্বাস রেখে ও পরস্পরের সাথে মজা করে আমরা বিষয়গুলো প্রমাণ করতে ও নিজেদের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করতে চাইতাম। এতে আমাদের মধ্যে দলগত ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা এবং রূপকল্প ও বিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেতনা ও উপলব্ধি তৈরি হয়েছে। এভাবেই আপনি জীবনে অসাধারণ কিছু করে ফেলতে পারবেন।''

যারা কাজে যোগ দিতে চান তাদের করপোরেট জগতে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে বিজমাইস্ট্রোস প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা বেশ কাজে লাগবে। শানিল তাঁদের প্রজেক্টের মেন্টরের নির্দেশনা পেয়ে উপকৃত হয়েছেন বলে জানান। তিনি মেন্টরকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেন, ''মেন্টরের দূরদর্শী নেতৃত্বে আমার দল বেশ উপকৃত হয়েছে। কারণ এই ধরনের নেতৃত্ব প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা যোগায়। নেতৃত্বের সহজাত ক্ষমতা ও পক্ষপাতহীন গুণ থাকলে দলগত কাজে সফলতা ত্বরান্বিত হয়। এ ধরনের এক নেতৃত্বের ছায়াতলে থাকার ফলে আমার দলটি ভীষণ উপকৃত হয়েছে এবং তাদের মধ্যে কাজের একাগ্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে।''

শানিল  বলনে, ''একই সময়ে আপনি সাহসী ও বিনয়ী থাকুন! আমরাও আমাদের নিজেদের পথে ছিলাম। ফলে অসাধারণ কিছু করার সুযোগ কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছি। এই প্রতিযোগিতাটি আপনার জন্য নিজেকে প্রমাণের একটি বড় সুযোগ। আপনি সামনে যত এগোবেন তত শেখার অভিজ্ঞতা হবে। কিন্তু আপনাকে নিজস্ব সীমাবদ্ধতাও অতিক্রম করে যেতে হবে। নিজের সহজাত জ্ঞান-বুদ্ধির ওপর আস্থা রাখুন। চারপাশে ভালো মানুষজন নিয়ে চলুন এবং নিজের দলের প্রতি বিশ্বাসে অবিচল থাকুন। এছাড়া মজা তো করবেনই!''

ইউনিলিভারের বিজমাইস্ট্রোস আগামী দিনের উচ্চাকাঙ্ক্ষী নুসরাত ও শানিলদের স্বাগত জানায়। চলমান করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে প্রতিযোগিতার সর্বশেষ আয়োজনটি করা হয়েছে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে।
নুসরাত ও শানিল বিজমায়েস্ত্রোজ শিরোনামের জাতীয় প্রতিযোগিতা ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা ফিউচার লিডারস লীগে (এফএলএল) অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন এবং উত্তরসূরিদের জন্য সফলতার দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন।

ব্যবসায়িক মনোভাবসম্পন্ন তরুণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিলিভার নিয়মিতভাবে বাংলাদেশে বাধাহীনভাবে বিজমাইস্ট্রোস আয়োজন করে আসছে। এটি তাঁদের জন্য এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে তাঁরা নিজেদের জীবন গড়ে তোলার দক্ষতা, দীক্ষা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান।

ইত্তেফাক/আরএ