একি কাণ্ড

ফিমেল ট্যাংক

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২০, ১৯:২৮

 

বিলাতের কেন্ট শহরে গিয়ে ট্যাংকের গায়ে লেখা দেখেছি ‘ফিমেল ট্যাংক’। ট্যাঙ্কের আবার লিঙ্গ আছে নাকি? এর  মেল-ফিমেল কী করে হয় জানি না। সেন্ট জর্জ স্কোয়ারে রাখা আছে। পরে জানতে পারলাম, যে ট্যাংকগুলোতে ৬ পাউন্ডার কামান থাকে সেগুলোকে পুরুষ ট্যাংক এবং যেগুলোতে কেবল মেশিন গান থাকে সেগুলোকে নারী ট্যাংক বলে। পুরুষ ট্যাংকের কাজ আক্রমণ করা ও নারী ট্যাংকের কাজ বিশেষত পদাতিক বাহিনীর আক্রমণ প্রতিহত করা অর্থাত্ আত্মরক্ষা। ২৮ জুলাই ১৯১৪ থেকে ২১ নভেম্বর ১৯১৮ পর্যন্ত প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলেছিল। এ যুদ্ধে জড়িয়ে গিয়ে ব্রিটেনের ওয়ার অফিস মনে করল, জিততে হলে নতুন কোনো মারণাস্ত্র বানাতে হবে যাতে শত্রু সহজে তাদের ঘায়েল করতে না পারে। এর ফলে বের হলো ট্যাংক যা সহজে বধযোগ্য নয়। প্রথম দিকে এর নাম রাখা হয়েছিল ভূমির জাহাজ, কিন্তু জার্মান শত্রুকে বোকা বানাতে হবে। ওরা যাতে মনে করে এটা পানির জলাধার তাই নাম রাখা হলো ট্যাংক। খামাখা কষ্ট করে গুলি অপচয় করে পানির ট্যাংক ফুটো করতে চাইবে কে? খেলোই না হয় শত্রুরা একটু পানি!

১৯০৪ সালে হর্নসবে অ্যান্ড সন্স এটার প্রাথমিক রূপ দেন। প্রথম মহাযুদ্ধে কেটারপিলার ট্রাক্টর কোম্পানি এটাকে জনপ্রিয় করে। ১৯১৪ সালে ব্রিটিশ কর্নেল আর্নেস্ট সুইন্টন এবং ইম্পিরিয়াল ডিফেন্সের সেক্রেটারি উইলিয়াম হ্যাংকি প্রস্তাব করেন চাকার চারপাশে কনভেয়ার বেল্ট লাগাতে। ১৯১৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ১৪ টন ওজনের লিটিল উইলি নামে প্রথম ট্যাংক তৈরি হয়। তখন এটা ছিল দুর্বল—ঘণ্টায় গতি মাত্র ২ মাইল। ক্রমে তার উন্নতি হতে থাকে। ফ্রান্সে ফ্লের্স-কৌর্সেলেট যুদ্ধে প্রথমবার এটা ব্যবহার করে তেমন সফলতা পাওয়া যায়নি। শত্রুর গোলন্দাজ বাহিনীর আক্রমণে অনেকগুলো অকেজো হয়ে পড়ে। হতোদ্যম না হয়ে ১৯১৬ থেকে ১৮ সালের মধ্যে আরো উন্নততর মডেল বানাতে থাকে ইংরেজরা এবং মার্ক-৪ মডেলটি খুব জনপ্রিয় হয়। ১৯১৭ সালে কাম্ব্রাই  যুদ্ধে বেশ সফলতা অর্জন করে তা। যুদ্ধের সময় তহবিল সংগ্রহের জন্য গঠিত জাতীয় যুদ্ধ সঞ্চয় তহবিলে সবচেয়ে বেশি অর্থ দান করে কেন্টবাসীরা, তাই লড়াই থেমে গেলে ১ আগস্ট ১৯১৯ তারিখে ২৪৫ নম্বর এই নারী ট্যাংকটি এফ ব্যাটালিয়ন ট্যাংক কর্পসের ক্যাপ্টেন ওয়াল্টার ফারার, এমসি তাদেরকে এটা উপহার দেন। প্রথমে রেলে করে ও পরে চালিয়ে নিয়ে এসে স্থাপন করা হয় সেন্ট জর্জ স্কোয়ারে। অনেক পরে তার ইঞ্জিন খুলে নিয়ে এটাকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে। ৬ সিলিন্ডার বিশিষ্ট এ ট্যাংকের ওজন ২৬ টন, দৈর্ঘ্য ২৬ ফুট, প্রস্থ ১০ ফুট এবং গতি ঘণ্টায় ৩.৭ মাইল।